ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ হ্রাস কমানো হলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ নির্দেশনা

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও পেট্রল সরবরাহ সংক্রান্ত সরকারের নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেলের গড় বিক্রয় হ্রাস ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনার মাধ্যমে ফিলিং স্টেশন প্রতি বরাদ্দ চার্ট অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই হ্রাসকৃত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে বিপিসির অধীনস্থ বিপণন কম্পানিগুলোর ডিপো সুপার, বিক্রয় কর্মকর্তা এবং ডিলার/এজেন্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংস্থান বজায় থাকবে এবং ক্রেতাদের মধ্যে তেল সংকট ও অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারী নিয়ন্ত্রণ ও বরাদ্দ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছে। বিপিসি এই নির্দেশনার মাধ্যমে দেশীয় বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে চাচ্ছে।

এছাড়া সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশনগুলোর বিক্রয় ব্যবস্থার মনিটরিং আরও শক্তিশালী করা হবে। বাজারে তেলের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিপিসি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে বরাদ্দ আরও সমন্বয় করবে। সরকার এবং বিপিসি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই ব্যবস্থা বাজারে অযথা চাপে পড়ে ক্রেতাদের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া রোধ করবে।

গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। এই হ্রাসকৃত বরাদ্দের সিদ্ধান্ত সেই প্রেক্ষাপটেই নেওয়া হয়েছে। বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিং স্টেশনে তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য ডিপো থেকে সরাসরি সরবরাহ, স্টক নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্রয় পর্যবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, দেশের সকল ফিলিং স্টেশন এই নির্দেশনা মেনে চলবেন এবং চাহিদা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে তেল সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, যানবাহনের কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়া এড়ানো সম্ভব হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে বরাদ্দ ও সরবরাহের ধারা পুনরায় সামঞ্জস্য করা হতে পারে। বিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি বিভাগের শহরে সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম নজরদারি করবে এবং প্রয়োজনে অবিলম্বে সংশোধনী পদক্ষেপ নেবে।

বিপিসির এ উদ্যোগ দেশের জ্বালানি বাজারকে স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যে প্যানিক সৃষ্টি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাব থেকে দেশের জ্বালানি বাজারকে নিরাপদ রাখতে সরকার এমন পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই নতুন নির্দেশনার ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত ও সমন্বিত হবে। ক্রেতাদের জন্যও এটি নিশ্চিত করবে যে, হঠাৎ করে তেলের অভাব বা দাম বৃদ্ধি থেকে তারা সুরক্ষিত থাকবেন। সরকারের এ পদক্ষেপে দেশে তেলের সাপ্লাই চেইন আরো স্থিতিশীল হবে এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি যেভাবেই হোক, সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন যাত্রা প্রভাবিত হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত