প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে বর্তমানে ছয়টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস প্রক্রিয়া চলছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হারবার অ্যান্ড মেরিন বিভাগের সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ আজ বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, জাহাজগুলোর মধ্যে এলপিজি, এলএনজি এবং জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্দরে ঢুকতে এবং খালাস প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে।
কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নিরাপত্তা ও কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদার ভেসেলের নিরাপত্তা বিশেষভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে খালাস প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ঝুঁকি বা বাধা না আসে। একই সঙ্গে দেশের পথে আরও চারটি জাহাজ আনা হচ্ছে। এদের মধ্যে একটি জাহাজ আজ বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করবে, এবং দুটি যথাক্রমে ১২ মার্চ ও ১৪ মার্চে পৌঁছাবে। এই জাহাজগুলোও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা পাবে, যা খালাস প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং ঝুঁকিমুক্ত করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে যে কোনো বিলম্ব প্রতিরোধ করতে জাহাজগুলোর আসন এবং খালাস সময়সূচি আগে থেকে পরিকল্পিত হয়েছে। বন্দরের ডিপো ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি জাহাজের ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে জ্বালানি তেলের সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং দেশে চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নিরাপদভাবে জ্বালানি বিতরণ নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের অভাবজনিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা এবং শিল্পখাত উভয় ক্ষেত্রেই জ্বালানির চাহিদা পূরণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দরের খালাস কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশীয় বাজারে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।
একই সময়ে, জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম তদারকিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে বন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং খালাস প্রক্রিয়ায় যেকোনো প্রকার ত্রুটি বা বিলম্ব প্রতিরোধের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ডিপো সুপাররা প্রতিটি জাহাজের কার্যক্রম মনিটর করছেন।
কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ছয়টি জাহাজ খালাস প্রক্রিয়ায় আছে এবং চারটি জাহাজও দেশে আসছে। আমরা চেষ্টা করছি, প্রতিটি জাহাজকে দ্রুত ও নিরাপদভাবে খালাস করা হোক যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। আমরা মাদার ভেসেল থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি।’’
চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের এই পরিকল্পিত ও সমন্বিত ব্যবস্থা দেশের জ্বালানি সাপ্লাই চেইনের জন্য সহায়ক প্রমাণিত হচ্ছে। এলপিজি, এলএনজি ও তেলবাহী জাহাজগুলোর সঠিকভাবে খালাস হওয়া মানেই হলো শিল্পখাত, পরিবহন এবং গৃহস্থালির জ্বালানি চাহিদা সুষ্ঠুভাবে পূরণ করা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে খালাস প্রক্রিয়ার কার্যক্রম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দ্রুত ও নিরাপদ খালাসের ফলে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সহজলভ্য হবে।
অতএব, চট্টগ্রাম বন্দরে এই সময়ে চলমান খালাস কার্যক্রম দেশের জ্বালানি সরবরাহ চেইনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বন্দরের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের এই দৃষ্টান্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।