ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
ঈদ পণ্যের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক পণ্যমূল্য তালিকা অনুযায়ী, রাজধানীর খুচরা বাজারে ডিম, মুরগি, ভোজ্যতেল, মসুর ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিটি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়, যেখানে একদিন আগে দাম ছিল ৩২ থেকে ৪০ টাকা।

মুরগির বাজারেও ঈদকে সামনে রেখে চাপ লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়, যা আগের দিন ২২০ টাকা ছিল। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং এক মাস আগে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, জিরা, লবঙ্গ ও চিনির মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকায়, যা সাত দিন আগেও ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। বোতলজাত ২ লিটারের সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ থেকে ৩৯৫ টাকা, এবং পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি জিরার দাম বেড়ে হয়েছে ৬৪০ টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ৬০০ টাকা। লবঙ্গের দামও বেড়ে হয়েছে ১৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ১২০০ টাকা।

কিন্তু এই দামের ঊর্ধ্বগতির পেছনে খামারিদের অবস্থাও বিশেষভাবে চিন্তার বিষয়। উৎপাদন খরচ সাড়ে ৯ টাকা হলেও প্রান্তিক খামারিরা ডিম বিক্রি করছেন সাড়ে ৬ টাকায়। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে লোকসান সহ্য করছেন। খামারিরা অভিযোগ করছেন, কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্যের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সাধারণ ক্রেতা বাড়তি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রান্তিক খামারিরা ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবে।

টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুরের খামারি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চার মাস ধরে লসে ডিম বিক্রি করছেন। উৎপাদন খরচ ৯.৫০ টাকা হলেও বিক্রি করছেন ৬.৫০ টাকায়। বড় কোম্পানির কারণে ক্রেতা বাড়তি দামে কিনছেন, খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই এলাকার আব্দুল মালেক বলেন, তার খামারে প্রতিদিন ৪০ হাজার টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে। তিন মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেন না। আলম হোসেন আরও বলেন, তার খামারে এখনও ২০ হাজার মুরগি আছে এবং দেড় মাসে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রান্তিক খামারিরা দেশের মানুষকে তুলনামূলক কম দামে ডিম ও মুরগি পৌঁছে দিয়েছেন। তবে আজ তারা সবচেয়ে বেশি সংকটে। প্রান্তিক খামারিরা ঝরে পড়লে পোলট্রি খাত কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাবে, যার ফলে বাজারে নির্ধারিত দামে ক্রেতাকে পণ্য কিনতে হবে। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান, কৃষক কার্ড অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খামারিদের দেওয়া হোক এবং সহজ শর্তে ঋণ ও বিদ্যুতের ভর্তুকি প্রদান করা হোক। এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য বাজার ও আড়তে ভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পোলট্রি খাত গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বাজারে স্বচ্ছতা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমানো না হলে ছোট খামারিরা দ্রুত ধ্বংসের পথে যাবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে পোলট্রি খামারের সঠিক সংখ্যা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে অনুমোদিত পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা খাতের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসব পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, ঈদকে সামনে রেখে পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিদের অবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, সরকারী সহায়তা এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে ভোক্তা ও খামারি—উভয়ই সমস্যায় পড়বেন। পোলট্রি খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা করতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত