প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের সুবিধার্থে অনলাইন মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে। চলতি করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। এবার থেকে করদাতারা ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেন্যুর মাধ্যমে অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদানের ঝুঁকি ছাড়াই তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে করদাতার ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন থাকা আবশ্যক এবং ৩১ মার্চের আগে আবেদন করা জরুরি। অনলাইনে জমা হওয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার অনলাইনে অনুমোদন বা নামঞ্জুরির সিদ্ধান্ত দেবেন। অনুমোদন পাওয়া করদাতা নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় ব্যবহার করে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
যেসব করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার আওতায় নেই, তাদের জন্যও সুবিধা রয়েছে। তারা ৩১ মার্চের আগে লিখিত আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে, এই করদাতারা চাইলে অনলাইনেও সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবে।
চলতি করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেমে প্রায় ৫০ লাখ নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন ইতোমধ্যেই প্রায় ৪১ লাখ করদাতা দাখিল করেছেন। এনবিআরের এই নতুন উদ্যোগ করদাতাদের সময়সীমার সঙ্গে নমনীয়তা এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
করদাতাদের সুবিধার্থে এমন ডিজিটাল উদ্যোগ দেশের কর ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করতে সহায়ক হবে। অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে তারা যেকোনো জায়গা থেকে নিরাপদভাবে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যা সময় এবং ভ্রমণের ঝামেলা কমাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়া করদাতাদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক, পাশাপাশি কর প্রশাসনের কাজের স্বচ্ছতা বাড়াবে।
এনবিআরের এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, করদাতাদের সহায়তা ও সুবিধার্থে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা ব্যক্তিগত করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলের চাপ কমাবে, পাশাপাশি কর প্রশাসনকে আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।