প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদের ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সচল রাখা এবং জ্বালানি তেলের অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদের আগে ও পরে ডিজেল, এলএনজি এবং জেট ফুয়েল নিয়ে মোট সাতটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এই জাহাজগুলো থেকে তেল খালাসের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস বিশেষ টিম গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা পেলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর ও বন্দরের বহির্নোঙরে ইতিমধ্যেই চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজ থেকে ছোট লাইটার এবং মাদার ট্যাংকারে জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে। আগামী ১৭ মার্চ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ‘প্রাচী’ এবং ২০ মার্চ ৭০ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ‘সোনানগোল বেঙ্গুইলা’ নামের দুটি জাহাজ বন্দরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, “জ্বালানির বিষয়ে বিপিসির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশে আসা জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে। আউটার অ্যাংকরে পণ্য খালাসের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ যেন নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
আগামী ২৪ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে চারটি জাহাজ এবং ২০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল নিয়ে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমদানিকৃত জ্বালানি তেল দ্রুত ডিপো ও টার্মিনাল থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, “জাহাজ থেকে তেল খালাসের পুরো প্রক্রিয়া, এরপর তা ডিপো এবং টার্মিনালে নেওয়া এবং শেষে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিটি ধাপ নিরাপদ ও সময়মত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এতে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে।”
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে আমদানি ও রফতানিবাহী কনটেইনার ওঠা-নামা এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর কাজ স্বাভাবিক রাখতে ২১টি অফডকে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)। এছাড়া কনটেইনারবাহী লরি, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধও জানিয়েছে তারা। বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, “ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং বেসরকারি অফডকগুলোতে যে পরিমাণ ডিজেল বা জ্বালানি তেলের প্রয়োজন, সে অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বেসরকারি অফডকগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারবে না, যার প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি ও রফতানি কার্যক্রমে।”
ঈদের ছুটিতে জ্বালানি খালাস ও অন্যান্য আমদানি পণ্যের দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস পাঁচটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, “প্রতিটি স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। এতে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
চট্টগ্রাম বন্দরে ঈদের দিন মাত্র ছয় ঘণ্টা ব্যাংক ও কাস্টমস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে বাকি সময়ে সব জাহাজ ভেড়ানো, কনটেইনার ওঠা-নামা এবং খালাস কার্যক্রম চলবে। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ব্যাংক, শিপিং প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ২৫টি সংস্থা। এদের যেকোনো একটি পর্যায়ে সমস্যা তৈরি হলে পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থায় সংকট দেখা দিতে পারে। তাই ব্যবসায়ীরা এই ঈদে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে সব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঈদের সময়ে জ্বালানি সরবরাহের কোনো গাফিলতি দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বন্দরে বিশেষ টিম, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপের দায়বদ্ধতা ও তৎপরতা দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে পরিকল্পিত এই প্রস্তুতি এবং বিশেষ টিম গঠন নিশ্চিত করবে যে, দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাত চলমান থাকবে এবং ঈদের দীর্ঘ ছুটিতেও মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা ও শিল্প-ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি হবে না।