প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর সোনামসজিদ স্থলবন্দর-এ ১০ দিনের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি এবং উৎসবমুখর পরিবেশকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান। তিনি জানান, আগামী ১৮ মার্চ বুধবার থেকে ২৭ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত এই স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত ছুটি শেষে আগামী ২৮ মার্চ শনিবার থেকে আবারও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সোনামসজিদ স্থলবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পাথর, পেঁয়াজ, চাল, ফলমূলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। আবার দেশের বিভিন্ন পণ্যও এই বন্দর হয়ে ভারতে রপ্তানি করা হয়। ফলে এই বন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকলে সীমান্ত বাণিজ্যে কিছুটা প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কিছু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। পণ্য লোড-আনলোড, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো আংশিকভাবে চালু রাখা হবে, যাতে ছুটির পর দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা যায়।
এছাড়া পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত এই সময়েও চালু থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে যারা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে সীমান্ত পারাপার করবেন, তাদের জন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগে এই ধরনের ছুটি অনেকটা নিয়মিত বিষয় হলেও এতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়। অনেকেই আগাম পণ্য মজুত করে রাখেন, যাতে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি না পড়ে। আবার কেউ কেউ ছুটির পর নতুন করে আমদানি-রপ্তানির প্রস্তুতি নেন।
শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও এই ছুটি একদিকে যেমন উৎসবের আনন্দ উপভোগের সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে কিছুদিনের জন্য কাজ বন্ধ থাকায় আয়ের একটি অংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে অধিকাংশ শ্রমিকই ঈদ উপলক্ষে এই বিরতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত বন্দরগুলোতে ছুটির সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগাম ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা নিজেদের পরিকল্পনা সেভাবে সাজাতে পারেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় না।
ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে, তখন এই ছুটি সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বন্দর এলাকার কর্মজীবী মানুষের মাঝেও উৎসবের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যের গতি ধরে রাখতে ছুটির পর দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক করা জরুরি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময় শেষে বন্দর কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হবে না।
সামগ্রিকভাবে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর-এ ১০ দিনের এই ছুটি একদিকে যেমন ঈদের উৎসবকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক একটি বিরতি, অন্যদিকে এটি সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সময়টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই ছুটির পর বাণিজ্য কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।