প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে অভিভাবকদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছেন, এনআইসিইউতে অপেক্ষা করতে করতে হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর মিছিল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সংকট আমাদের স্বাস্থ্যখাতের এক করুণ বাস্তবতা প্রতিফলিত করছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ সোমবার রাতের নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই সতর্কবার্তা জানান। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলিতে শিশুদের ক্রিটিক্যাল ট্রিটমেন্ট এবং এনআইসিইউ সাপোর্ট অত্যন্ত অপ্রতুল। সামান্য অসুস্থতার ক্ষেত্রেও রোগীদের ঢাকায় এসে চিকিৎসা নিতে হয়, যা এক ধরনের দুঃখজনক বাস্তবতা। তিনি আরও বলেন, শিশুদের মধ্যে ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ দিনদিন বেড়ে চলেছে। এটি মূলত তাদের কৃত্রিম ও অপ্রাকৃতিক জীবনধারার সঙ্গে যুক্ত। শিশুরা প্রকৃতির সান্নিধ্য থেকে দূরে বড় হচ্ছে এবং উন্নতির নামে তাদের দৈনন্দিন জীবন প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মাটির সঙ্গে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ছে। এতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে অনেক শিশুই মা-বাবার যথাযথ যত্ন থেকে বঞ্চিত। অনেক শিশু কাজের লোকের হাতে বা ডে-কেয়ারে বেড়ে ওঠছে, ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, বিজাতীয় অপসংস্কৃতি ও উদাসীনতার কারণে পরিবারগুলোর স্পিরিচুয়াল দিকও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে দিন দিন আমল, দোয়া এবং তাওয়াক্কুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিকর অভ্যাস ও চিন্তাধারা শিশুদের জীবনেও প্রভাব ফেলছে। তাই অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকা।
তিনি আরও বলেন, হামের চলমান সংকট মোকাবিলায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের পুষ্টিকর খাবার প্রদান, প্রকৃতির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শায়খ আহমাদুল্লাহ সতর্ক করেন যে, সন্তানের মধ্যে হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে এবং দোয়া ও আল্লাহর আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের সন্তানদের সকল প্রকার রোগ ও ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সচেতন অভিভাবক এবং প্রাকৃতিক জীবনধারায় বড় হওয়া শিশুদের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম স্বাস্থ্যকর, শক্তিশালী এবং নিরাপদ হবে।
চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগের প্রতিরোধের জন্য শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, যথাযথ পুষ্টি, নিরাপদ পরিবেশে খেলা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। দেশে হাসপাতাল ও এনআইসিইউ সুবিধার অপ্রতুলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাই অভিভাবকদের সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়োপযোগী এবং জরুরি।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই সতর্কবার্তা শুধু স্বাস্থ্যকর অভিভাবকত্বের প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সমাজের স্বাস্থ্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান হিসেবেও গণ্য করা হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা, শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সচেতন অভিভাবকত্ব অপরিহার্য। হামের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ, পরিবারিক যত্ন এবং স্বাস্থ্যখাতের কার্যকর ব্যবস্থাপনা একত্রে প্রয়োজন।
সংক্ষেপে, দেশের শিশুদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের বিশেষ সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রাকৃতিক জীবনধারার মধ্যে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। শায়খ আহমাদুল্লাহর বার্তা সকল অভিভাবক ও পরিবারকে এই বিষয়ে বিশেষ মনোযোগী হওয়ার জন্য সতর্ক করছে।