৮৭ দিন পর ইরানে ফের ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ২ বার
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর ইরানে আবারও বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে টানা ৮৭ দিন ধরে দেশটির নাগরিকরা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিলেন। এবার সেই অবরুদ্ধ ডিজিটাল পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ঠিক কবে থেকে এবং কীভাবে সম্পূর্ণভাবে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

গত কয়েক মাস ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, টানা ৮৭ দিন ধরে দেশটির অধিকাংশ মানুষ বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এই সময়টিতে কেবলমাত্র সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারী ব্যয়বহুল ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পেরেছেন।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রথম দফায় জানুয়ারির ৮ তারিখে ইন্টারনেট ব্যবস্থায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। পরে ফেব্রুয়ারির দিকে কিছুটা শিথিলতা এলেও ২৮ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি আবারও কঠোর হয়ে ওঠে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা আরও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট কার্যত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিনির্ভর পেশার মানুষরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বড় অংশ অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রবাহকে সীমিত করে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটিতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারে কড়াকড়ি, সেন্সরশিপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। সরকার বরাবরই জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে এই নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করে এসেছে। পাশাপাশি তারা একটি বিকল্প অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা দেশীয় নেটওয়ার্ক নামে পরিচিত।

এই অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যাংকিং, শিক্ষা, সরকারি সেবা এবং কিছু অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক তথ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি সীমিত সুবিধা দেয়, যার ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, দীর্ঘ সময় বৈশ্বিক ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকা একটি দেশের অর্থনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডিজিটাল অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব দেখা গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরান সরকারের নতুন নির্দেশকে অনেকেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে এখনো পুরোপুরি স্বচ্ছতা না থাকায় পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারে আগের মতো সীমাবদ্ধতা থাকবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে ইন্টারনেট নীতিও প্রভাবিত হচ্ছে।

তবে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহল দ্রুত ইন্টারনেট স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘ সময় ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা তাদের জীবনে যে প্রভাব ফেলেছে, তা কাটিয়ে উঠতে এখন স্বাভাবিক সংযোগ পুনরুদ্ধারকে জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে ৮৭ দিন পর ইরানে বৈশ্বিক ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে এর পূর্ণ প্রভাব দেখতে আরও কিছু সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত