বিশ্ববাজারে স্বর্ণ–রুপার দামে পতন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
বাংলাদেশে সোনার দাম আপডেট

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ববাজারে আবারও ওঠানামার মধ্য দিয়ে স্বর্ণ ও রুপার দামে পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত মূল্যবান ধাতু দুটি নিম্নমুখী প্রবণতায় ফিরে গেছে। এতে মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম সামান্য কমে যায়। যদিও দিনের শুরুতে কিছুটা অস্থিরতা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি ফিউচার বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও অন্যদিকে বৈশ্বিক সুদের হার নীতি ও ডলারের শক্ত অবস্থান স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সাধারণত সংকটকালে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও বর্তমানে উচ্চ সুদের পরিবেশে সেই আকর্ষণ কিছুটা কমে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি নতুন করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তেলের দাম বাড়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের জন্য সাধারণত নেতিবাচক। কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ বা আয় সৃষ্টি করে না, তাই সুদ বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা ডলারের মতো আয়-উৎপাদনশীল সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এর ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায় এবং দামও নিম্নমুখী হয়।

এশীয় বাজারেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে চলে যান। অনিশ্চিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাজারে একদিকে নিরাপত্তার চাহিদা থাকলেও অন্যদিকে মুদ্রানীতি সংক্রান্ত উদ্বেগ স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

রুপার বাজারেও পতনের ধারা দেখা গেছে। একই দিনে রুপার দামও কমে যায়, পাশাপাশি প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পখাতে ব্যবহৃত ধাতুগুলোর চাহিদা কমে যাওয়াও এই পতনের একটি কারণ হতে পারে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের দ্বৈত চাপ তৈরি করেছে। একদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মুদ্রানীতি—এই দুইয়ের মধ্যে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই পরিবর্তনের প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমলে সাধারণত দেশের বাজারেও সমন্বয় করা হয়। ফলে আগামী দিনগুলোতে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের বাজারে এর আগে সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ফলে বর্তমানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে পতন অব্যাহত থাকলে স্থানীয় বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা করছেন ক্রেতারা।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু আন্তর্জাতিক দামের ওপরই নয়, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় চাহিদার ওপরও দেশের বাজারের মূল্য নির্ভর করে। তাই বিশ্ববাজারে সামান্য পতন ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতি যদি স্থিতিশীল না হয়, তাহলে স্বর্ণের বাজারে আবারও ওঠানামা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত বাজারকে প্রভাবিত করবে।

সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের এই পতন একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে দেশীয় বাজারেও সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত