প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি কিছু এলাকায় মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর কাশি, হাঁচি এবং শ্লেষ্মার মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে যায়। সংক্রমণ শুরু হলে আশপাশের শিশুদের মধ্যে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো। শিশু জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। কয়েকদিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ শিশু স্বাভাবিকভাবে সেরে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। হামের জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ এবং বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এই জটিলতা অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করান, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। টিকা শিশুকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি পুরো সমাজকেও ভাইরাসের বিস্তার থেকে রক্ষা করে। তাই অভিভাবকরা নিশ্চিত করুন যে শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা সময়মতো গ্রহণ করেছে। প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে টিকা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা উচিত।
হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত হাত ধোয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আতঙ্কিত হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো পদক্ষেপই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি। হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। তাই ভয় নয়, দায়িত্বশীল আচরণই শিশুকে সুরক্ষিত রাখার মূল উপায়। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্য সচেতনভাবে টিকা গ্রহণ, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অভিভাবকরা পরিবেশ, পুষ্টি এবং টিকাদান নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকলে হাম সংক্রমণকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অভিভাবকরা আতঙ্কিত না হয়ে সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শিশুদের জীবন ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব। সামগ্রিকভাবে সচেতনতা, স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপন এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ হলো হাম প্রতিরোধের কার্যকর উপায়।