সংস্কৃতিচর্চা বৃদ্ধি সামাজিক সুস্থতায় সহায়ক: ডেপুটি স্পিকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুক্রবার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হল রুমে জনতা কালচারাল একাডেমির বার্ষিক পরীক্ষা সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিচর্চায় যুক্ত করলে তারা ভবিষ্যতে সামাজিক ব্যাধি, বিশেষ করে মাদক থেকে দূরে থাকবে। তিনি বলেন, যে জাতি সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ, সেই জাতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক এগিয়ে থাকে।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল আরও বলেন, “আমরা যদি আমাদের সন্তানদের সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে পারি, তাহলে তারা কিশোর বয়স থেকেই সঠিক পথে চলতে শিখবে। মানবিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে আমরা একটি কাঙ্ক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে পারবো। সংস্কৃতি শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্ববান ও সুস্থ চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত করে।”

তিনি জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মূল্যায়ন করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড বা পতাকার জন্য নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অর্জিত। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার মনে করিয়ে দেন, দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, “পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের সমাজ অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে লালন ও বিকাশ করতে হবে, যাতে আমাদের স্বকীয়তা ও আত্মপরিচয় অটুট থাকে।”

কলমাকান্দার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবহেলিত এই উপজেলাকে একটি মডেল এলাকায় পরিণত করতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, মানুষের মেধা, মনন এবং সৃজনশীলতা উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি, যা সমাজকে শক্তিশালী করে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের যুবকদের শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের মধ্যে সংস্কৃতিচর্চা বাড়ালে কিশোর বয়সে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখে এবং মাদক, হিংসা ও অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকে। কায়সার কামাল মনে করিয়ে দেন, প্রতিটি শিশুর জীবনকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক শিক্ষা অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রজন্মের যুবক ও যুবতীরা দেশের সংস্কৃতিকে ধারণ করবে এবং সামাজিক নৈতিকতা বজায় রেখে সমাজের কল্যাণে কাজ করবে।

এনামুল হক তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মিকাইল ইসলাম এবং জনতা কালচারাল একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আফরোজা বেগম শিমু। তারা সবাই শিশু ও কিশোরদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যে প্রকাশিত হয়েছে যে, দেশের সামাজিক সুস্থতা ও উন্নয়নে সংস্কৃতিচর্চা অপরিহার্য। তিনি মনে করান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি শিশুর মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজে স্থিতিশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সম্মান বৃদ্ধির জন্য সাংস্কৃতিক শিক্ষা অতি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে বিশেষ করে কলমাকান্দার মতো উপজেলাগুলোতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের বিকাশ ঘটানো গেলে ভবিষ্যতে সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সুশৃঙ্খল ও সংস্কৃতিমূলক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শিশুদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় সম্পৃক্ত করা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত