প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে, ছুটির দিনেও। শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোর থেকেই মানুষ তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে আসতে শুরু করেন। সরকারি ছুটির দিন হলেও রাজধানীবাসীর ভিড় এবং তেলের সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে চাপ বাড়েছে। অনেক পাম্পে তেল নেই, ফলে যেসব পাম্পে তেল আছে, সেখানেই গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
ভোগান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তেল পেতে সময় লাগছে এক থেকে আড়াই ঘণ্টারও বেশি। গাড়ি চালকরা সিরিয়াল অনুযায়ী দাঁড়াচ্ছেন, তবু দীর্ঘ লাইন ও তেলের সীমিত সরবরাহের কারণে ধীরগতি তৈরি হচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, পাম্প কর্তৃপক্ষ চাহিদা মতো তেল সরবরাহ করছে না এবং তেল দিতে সময় নিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
মোটরসাইকেলে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা রফিক নামের এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, “ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। ক্লাস বাদ দিয়ে তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এই দীর্ঘ লাইন এবং অপেক্ষা সত্যিই কষ্টের।” অন্যদিকে, সাজ্জাদ নামের একজন রাইডার বলেন, “বাইকের ট্যাংকে তেল শেষ হয়ে গেছে। তাই দীর্ঘ লাইন ঠেলে ঠেলে এক পর্যায়ে পাম্পের কাছাকাছি এলাম। যদিও সময় বেশি লেগেছে, তেল পেয়ে কিছুটা স্বস্তি মেলেছে।”
পাম্পের একজন কর্মী জানিয়েছেন, “আগে আমাদের পাম্পে যেমন গ্রাহক ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে তেল পেতে অপেক্ষা বেশি। তবে তেল পেলে সবাই কিছুটা শান্তি পাচ্ছে।” পাম্প কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি সংকটের কারণে সব পাম্পে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারি অফিসের কাজের সময় কমানো হয়েছে, সন্ধ্যার পর বাজার ও মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তেলের সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবুও, ছুটির দিনেও রাজধানীবাসীর জীবনযাত্রা ও চলাচলে ব্যাঘাত দেখা যাচ্ছে।
ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বিশেষ করে কমিউটার, শিক্ষার্থী ও দৈনন্দিন যাত্রীরাও তেলের জন্য পাম্পে অনেক আগে থেকে পৌঁছাচ্ছেন। দীর্ঘ সারি এবং ধীরগতি শুধু সময়ের অপচয় নয়, এটি মানসিক চাপও সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে, কারণ তারা প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত দায়–দায়িত্ব মেলাতে পারছেন না।
রাজধানীবাসীর অসুবিধার কথা বিবেচনা করে তেলের সঠিক ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম শহর হিসেবে ঢাকা তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তাই তেলের সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন এবং সীমিত সরবরাহের ঘটনা রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন জীবনে প্রকৃত অর্থে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। যদিও তেল পেলে সাময়িক স্বস্তি মিলছে, তবে স্থায়ী সমাধান না হলে এই সমস্যা নিয়মিতভাবে চলতে পারে।