প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত ট্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রধান কার্যালয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সরকারের অঙ্গিকার বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন সম্পর্কিত যে অঙ্গিকার দেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়ন এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে দুদকের চেয়ারম্যান পদায়ন দীর্ঘ এক মাস ধরে না হওয়ার ফলে সংস্থাগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। এর প্রভাব পড়ছে মামলার অনুসন্ধান এবং বিচার কার্যক্রমে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, কার্যকর কমিশন না থাকলে তদন্ত ও মামলা পরিচালনায় যথাযথ স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়। তিনি বলেন, “অতীতে শাসনব্যবস্থায় আমরা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন দুর্নীতির সাক্ষী হয়েছি। তাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা ও কার্যকরতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি দলের মহাসচিব কয়েকদিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন যে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে, তবে টিআইবি এই অঙ্গিকারের কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (আউটরিচ ও কমিউনিকেশন) মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং পরিচালক (রিসার্চ ও পলিসি) মো. বদিউজ্জামান। ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেন, সরকারের অঙ্গিকার বাস্তবায়ন না হলে সমাজে দুর্নীতি দমন, বিচার কার্যক্রম এবং মানবাধিকার সুরক্ষা প্রভাবিত হবে। তিনি এই বিষয়গুলোতে সরকারের স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
টিআইবির এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যদি সংস্থাগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ কেবল দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হবে। আমরা চাই সরকারের অঙ্গিকার অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।” তিনি আরও বলেন, নীতি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকলে সঠিকভাবে বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির অন্যান্য কর্মকর্তারা বলেন, দেশের বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। আদালতের কার্যক্রম, দুদকের তদন্ত এবং মানবাধিকার কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হলে সরকারের স্বদিচ্ছা থাকা জরুরি। একই সঙ্গে, আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তারা জানান, টিআইবি সরকারকে নিয়মিতভাবে এই অঙ্গিকার বাস্তবায়নের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে সুপারিশ প্রদান করবে।
টিআইবির এই আহ্বান দেশের নাগরিক সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সংস্থার পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিচার বিভাগ, দুদক এবং মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে দেশের মানুষ যথাযথ বিচার, স্বচ্ছ তদন্ত এবং মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
উপসংহারে বলা যায়, টিআইবি সরকারের দেওয়া অঙ্গিকার বাস্তবায়ন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্বের প্রতি জোর দিয়েছে। দেশের আইন ও শৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি প্রভাবশালী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের উচিত এই অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করে জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং সংস্থাগুলোকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করা।