হাওরে দেশি মাছ নিধন ঠেকাতে কড়াকড়ি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৮ বার

সিলেটের বিস্তৃত হাওরাঞ্চলে দেশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে দেশি মাছের ডিম ছাড়ার সময় হওয়ায় হাওরজুড়ে শুরু হয়েছে ‘মাছ রক্ষা অভিযান’। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা, বিক্রি ও পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, কাউয়ারগাঁও বিলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিতে স্থানীয়ভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা ও জাল ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রামপুলিশ ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছে হাওরের বিভিন্ন পয়েন্ট।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, বর্ষাকালে দেশি মাছ যেমন—পুঁটি, ট্যাংরা, কৈ, শিং, মাগুর, চিংড়ি, বোয়াল প্রভৃতি প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়ে। এই সময়টাতে যদি মাছ ধরা হয়, তাহলে প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভবিষ্যতে দেশি মাছের ঘাটতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওরের অনেক প্রজাতির দেশি মাছ বিলুপ্তির পথে চলে গেছে, যার প্রধান কারণ সময়জ্ঞানহীন মাছ নিধন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা স্থানীয় জনগণকে সচেতন করছি এবং একাধিক মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করছি। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেল-জরিমানা দুটোই হবে।” তিনি আরও জানান, অনেকসময় কিছু অসাধু জেলে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ ধরেন, যা শুধু মাছ নয়, ডিম ও পোনাও ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে কারেন্ট জালের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে হাওরপাড়ের অনেক জেলে পরিবার এই নিষেধাজ্ঞাকে মেনে নিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন। অনেকে বলেন, মাছ ধরা তাদের একমাত্র জীবিকা হলেও তারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনের পাশে থাকতে প্রস্তুত।

পরিবেশবিদরা মনে করেন, হাওরের প্রাকৃতিক মাছের বৈচিত্র্য রক্ষা শুধু অর্থনৈতিক না, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত মাছ নিধন বন্ধ না হলে হাওরের পুরো ইকোসিস্টেম হুমকির মুখে পড়বে।

সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও স্থানীয় স্কুল-কলেজে কর্মশালাও শুরু হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, স্থানীয়দের সক্রিয় সহযোগিতায় হাওরের দেশি মাছ সংরক্ষণের এ অভিযান সফল হবে এবং ভবিষ্যতে মাছের প্রাচুর্য ফিরে আসবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে।

এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে। হাওরের প্রতি মমত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে এই উদ্যোগ যেন শুধু নিয়ম না হয়ে ওঠে একটি আন্দোলন—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত