প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গাজীপুর: গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরকে ঘিরে বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে যাত্রাকালে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় কিছুক্ষণ যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিআরটি প্রকল্পের উড়াল সড়ক এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পৌঁছালে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। মুহূর্তেই পুরো এলাকা রাজনৈতিক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
নেতাকর্মীদের মূল দাবি ছিল বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি। তারা গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন এবং কিছু সময়ের জন্য রাস্তার একাংশে অবস্থান নেন। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিনা অপরাধে কারাবন্দি রয়েছেন। তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনার আহ্বান জানান।
এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি, দুলাল হোসেন, নবীন হোসেন, মানিক মিয়া, মো. শাহিন মিয়া, হাবিবুর রহমান মিতুন, ফারুক হোসেন, আজিজুল হক, হাবিবুর রহমান এবং রফিকুল ইসলামসহ অনেকে অংশ নেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে এ ধরনের কর্মসূচির কারণে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের মামলার ইতিহাসও আলোচনায় এসেছে। জানা যায়, ২০০৪ সালের ৭ মে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের রায়ে বিভিন্ন আসামির মধ্যে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রায়ই দেখা যায়, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় এ ধরনের বিক্ষোভ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়ায়।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতারা এটিকে শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে দেখালেও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিরাপত্তা বিঘ্নের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে টঙ্গীর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হবে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে না।