উত্তরায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসায় মেট্রোরেলের বগি রিজার্ভ, নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা বাহিনী

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৫ বার

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় রাজধানীজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী হতাহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয় চরম উদ্বেগ আর আতঙ্ক। এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আহতদের দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী।

পুলিশ সদরদপ্তর সোমবার দুপুরে জানায়, বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মেট্রোরেলের একটি বগি রিজার্ভ রাখা হয়েছে। বিশেষ এই বগিটি নারী বগির পাশেই থাকবে, যাতে আহতদের স্থানান্তরকালে ন্যূনতম প্রতিবন্ধকতা না হয় এবং দ্রুততা নিশ্চিত করা যায়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবারের মতো মেট্রোরেলকে একটি জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হলো। ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায়, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল ভবনটিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া, ছাই আর মানুষের আর্তচিৎকার।

বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি চীনা তৈরি এফ-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ ফাইটার, যেটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে সজোরে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি ভবনের ঠিক মাঝ বরাবর গিয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই দগ্ধ হতে থাকে স্কুলের কক্ষগুলো। আগুনের লেলিহান শিখা ঘিরে ধরে শিশুদের, অনেকেই ক্লাসরুমেই আটকা পড়ে যায়।

দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিমান বাহিনীর উদ্ধার ইউনিট, ফায়ার সার্ভিস, র‍্যাব ও পুলিশ। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, পুরো ক্যাম্পাস খালি করে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে হয়। আহতদের মধ্যে অনেকে দগ্ধ অবস্থায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে যেমন নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, তেমনি দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আইএসপিআরের বরাতে জানা যায়, বিমানে পাইলট হিসেবে ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও বিকাল পৌনে ৪টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ঘটনার ভয়াবহতা এবং শিশুশিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে এনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

উত্তরার আকাশে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় যেন একটি জাতির নিরাপত্তাবোধকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু একটি প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনা নয়, এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেঁষে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ রুট এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনরক্ষায় রাষ্ট্রের প্রস্তুতির প্রশ্নও সামনে এনেছে। পুলিশের মেট্রোরেল বগি রিজার্ভ করার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত একটি জরুরি দৃষ্টান্ত হলেও, বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—এমন দুর্ঘটনা আদৌ প্রতিরোধযোগ্য কি না।

এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিল, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো অবহেলা কিংবা গাফিলতির জায়গা নেই। উত্তরায় একটি কালো দিন শুধু একটি অঞ্চলের নয়, পুরো জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত