গণমাধ্যম স্বাধীনতায় সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
গণমাধ্যম স্বাধীনতায় সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠকে গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সংবাদপত্র শিল্পের সংকট এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন। বৈঠকটি দুপুর ২টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং পরে একটি গ্রুপ ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্ব দেয়।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সংবাদপত্র পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে গণমাধ্যমের তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ধৈর্য সহকারে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব গ্রহণ করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর নোয়াবের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে, যাতে গণমাধ্যম শিল্পের বাস্তব সমস্যা সরাসরি সরকারের সামনে উপস্থাপন করা যায়।

বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি দেশের সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং বিজ্ঞাপন রাজস্ব হ্রাসের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি এ খাতের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

নোয়াব সদস্যরা জানান, সংবাদপত্র শিল্প বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে এবং একে রুগ্ণ শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তারা ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন এবং বর্তমান সময়েও একই ধরনের নীতিগত সহায়তার দাবি জানান।

বৈঠকে আরও উঠে আসে সরকারি বিজ্ঞাপনের বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি। নোয়াব নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিজ্ঞাপন বিল এখনো বকেয়া রয়েছে, যা সংবাদপত্র শিল্পের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গণমাধ্যম মালিকরা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, তিন মাস পর পর এ ধরনের মতবিনিময় সভা হলে নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিল্পের সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।

বৈঠকে আরও আলোচনায় আসে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের বিষয়টি। নোয়াব সদস্যরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের জামিন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন, স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিকাশ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নতুন নীতিগত সহায়তার দাবি জানান।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে নোয়াবের পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি এ এস এম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রকাশক নাসিম মনজুরসহ শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও প্রকাশকেরা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র শিল্পের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শিল্পের আর্থিক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, এই বৈঠককে গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সংবাদপত্র শিল্পের সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় করা যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত