উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৯৫০ আনসার নিয়োগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৯৫০ আনসার নিয়োগ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ হিসেবে ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল সংখ্যক আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট ৪ হাজার ৯৫০ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত করা হবে, যা দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন-১ অধিশাখা থেকে গত বুধবার উপসচিব সুজিৎ দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সম্মতির বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো সম্মতিপত্রে এই নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর ভেতরে থাকা মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সুরক্ষা, রোগী ও তাদের স্বজনদের নিয়ন্ত্রণ, এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তারা তিনটি শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। এতে করে হাসপাতালের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই বৃহৎ নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ আরও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগীদের সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতাও আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ হবে।

প্রশাসনিক নথিতে বলা হয়েছে, এই ৪ হাজার ৯৫০ জন আনসার সদস্যের বেতন, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, রেশন, যাতায়াত, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এই ব্যয় সরকারের চলমান স্বাস্থ্য খাতের বাজেট কাঠামোর মধ্যে থেকেই সমন্বয় করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অনেক সময় অতিরিক্ত ভিড়, বিশৃঙ্খলা কিংবা বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এসব সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড, ল্যাবরেটরি এবং ওষুধ সংরক্ষণাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার হবে। এতে চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরি বা ক্ষতির ঝুঁকিও কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোই দেশের সাধারণ মানুষের প্রথম ভরসাস্থল। তাই এখানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মান উন্নত হবে। তারা মনে করেন, আনসার সদস্যদের নিয়োগ শুধু নিরাপত্তাই নয়, রোগী ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও তদারকির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় আনসার সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, সমন্বয় এবং প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত না হলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

সরকারি এই উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবাকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং জনগণের জন্য সহজলভ্য করতে এটি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দেশের ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার সদস্য নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যখাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত