প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘লাগেজ ভ্যান প্রকল্প’ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক পরিদর্শনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও যাত্রীসেবার ঘাটতির চিত্র। দুদকের একটি পরিদর্শক দল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন পরিদর্শন করে প্রকল্পে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বেশ কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। যাত্রীসেবার জন্য বরাদ্দ দেওয়া নানা সামগ্রী কাগজে-কলমে সরবরাহ ও ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে তার চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।
দুদক জানায়, অভিযানের সময় ট্রেনের প্রতিটি কোচে সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, টিস্যু ও এয়ারফ্রেশনার সরবরাহের কথা রেজিস্ট্রারে উল্লেখ থাকলেও বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে—এসব সামগ্রীর কোনোটিরই দেখা নেই। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসি কোচে কোনো কোনো সময় সামান্য কিছু দেওয়া হলেও, নন-এসি কোচে প্রায় কিছুই দেওয়া হয় না। এমনকি কোন কোন ট্রেনের শৌচাগারও ছিল অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত।
এমন বাস্তবতা যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি সরকারের অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকটিও উন্মোচিত করেছে। রেলওয়ের বাজেটের এক বড় অংশ যাত্রীসেবা উন্নয়নে বরাদ্দ থাকলেও, এই অনিয়ম প্রমাণ করে যে সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতা ও সৎ ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি, বরাদ্দ, সরবরাহ ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে বিরাট পার্থক্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা আরও তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও অনেকেই মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাগরিক সুবিধার উন্নয়নে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব থাকলে সেই উদ্যোগ বিফলে যেতে বাধ্য। রেলওয়ের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে এমন অনিয়ম দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে, পাশাপাশি জনগণের আস্থা হারাতে থাকে।
রেলওয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ কী পদক্ষেপ নেয়—তা এখন জনসাধারণের আগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রে। দুদকের সুপারিশ ও তদন্তের ভিত্তিতে যদি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তবেই এই সেবাখাত আবারও জনআস্থার জায়গায় ফিরে আসতে পারে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন