টেকনাফে স্থলবন্দর বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
টেকনাফ স্থলবন্দর সীমান্ত

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর টেকনাফ স্থলবন্দর ঘিরে আবারও সীমান্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে একটি কাঠবোঝাই নৌযান টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বন্দরসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এমন একটি নৌযান আগমনের খবরকে অনেকেই সীমান্ত বাণিজ্যের পুনরুজ্জীবনের সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখছেন।

শুক্রবার সকালে মিয়ানমারের মংডু এলাকার আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে কাঠবোঝাই একটি বোট টেকনাফের দিকে যাত্রা শুরু করে। তবে দুপুর পর্যন্ত সেটি বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি।

বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, একটি কাঠবোঝাই নৌযান আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি বন্দরে পৌঁছায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আগমন নিশ্চিত হলে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে এই খবরে স্বস্তির পাশাপাশি নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। টেকনাফ স্থলবন্দরের সঙ্গে যুক্ত মাঝি ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় ছিলেন। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকেই জীবিকার সংকটে পড়েন। তাই একটি মাত্র বোটের আগমনকেই তারা সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় মাঝি শামসুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন একটি নৌযানের খবর তাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। যদিও এখনও নিশ্চিত কিছু হয়নি, তবুও তারা ভালো কিছু ঘটার অপেক্ষায় আছেন।

জানা গেছে, কাঠবোঝাই বোটটি মংডুর হায়েনখালী খাল এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং এটি টেকনাফের এক ব্যবসায়ী মো. ফারুকের জন্য আনা হচ্ছে। সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার আগে এই রুট দিয়ে নিয়মিতভাবে কাঠ, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো।

রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ-মংডু সীমান্তের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার এলাকা কার্যত আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদীর ওই অংশে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে একপর্যায়ে পুরো সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।

গত বছরের এপ্রিল মাসে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর মিয়ানমারের জান্তা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে একদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন, অন্যদিকে দেশের রাজস্ব আয়েও প্রভাব পড়ে।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, টেকনাফ স্থলবন্দর দীর্ঘদিন অচল থাকায় কেবল স্থানীয় অর্থনীতি নয়, পুরো সীমান্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কাঠ, মাছ, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা খরচ বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে একটি মাত্র নৌযানের আগমনকে কেন্দ্র করে আবারও আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়ার ঘোষণা নয়, তবুও এটিকে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত নৌযান চলাচল শুরু হলে টেকনাফ স্থলবন্দর তার পূর্বের কার্যক্রমে ফিরে যেতে পারবে এবং সীমান্ত বাণিজ্যে গতি আসবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলও মনে করছে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, হাজারো শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী আবারও জীবিকার সুযোগ ফিরে পাবেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

সব মিলিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর ঘিরে দীর্ঘ এক বছরের স্থবিরতার পর একটি নৌযানের আগমনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি সীমান্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন অপেক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়ার ঘোষণার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত