নারী নেতৃত্বে সংসদ আরও প্রাণবন্ত হবে: মির্জা ফখরুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ৪৬ বার
নারী সংসদ সদস্য সংসদ ভূমিকা

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জাতীয় সংসদকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে নতুন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নারী এমপিরা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারের বিভিন্ন জোটভুক্ত সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সংসদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে নারী প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শুধু গণতন্ত্রকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথও সুগম করবে। তার মতে, নতুন নারী সংসদ সদস্যরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সংসদকে আরও গতিশীল করবেন।

তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং ন্যায্য সমাজ গঠনে এই জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সংসদে তাদের অংশগ্রহণ নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে নবনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যরা অংশ নেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারা জানান, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক সাম্য, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় তারা কাজ করতে চান। তাদের মতে, সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তারা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করবেন।

এ সময় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও চিফ হুইপসহ অন্যান্য নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে নবনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যরাও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান।

শপথ গ্রহণের পর এটি তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শ্রদ্ধা নিবেদন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক যাত্রার একটি প্রতীকী সূচনা।

এর আগে রোববার রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ শেষে তারা সংসদ সচিবের কার্যালয়ে শপথনামায় স্বাক্ষর করেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের মোট সংখ্যা ৫০টি। এর মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীর জোট ১২টি এবং স্বতন্ত্র জোট পেয়েছে একটি আসন। তবে একটি আসন নিয়ে এখনো আইনি জটিলতা চলমান রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারে। তবে তাদের কার্যকর ভূমিকা নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিবেশ, স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রমের বাস্তব চর্চার ওপর।

নারী সংসদ সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী, শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে তারা অগ্রাধিকার দেবেন।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নতুন এই নারী নেতৃত্ব সংসদে নতুন আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে বিরোধী ও সরকারি রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে নীতিনির্ধারণী বিতর্ক আরও প্রাণবন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন নারী সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, তারা কতটা কার্যকরভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে কতটা গতিশীল করতে সক্ষম হন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত