প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে বেইজিং জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বুধবার (৬ মে) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র লিন জিয়ানের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। তিনি সরাসরি সফর নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে কূটনৈতিক ভাষায় জানান, বিষয়টি দুই দেশের আলোচনার আওতায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ ও ১৫ মে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যেতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের পরিকল্পনা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। সে সময় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বাড়ায় সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প চীন নিয়ে তুলনামূলকভাবে নরম অবস্থান নিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চীনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন, চীন এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রকাশ্য বিরোধিতামূলক অবস্থান নেয়নি।
চীনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইরান সংকটসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চায় না। বরং সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধুমাত্র দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটেও। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেখানে চীনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, তেল সরবরাহ এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলো নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্ভাব্য আলোচনাকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগও নিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর দুই দেশের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন কিছুটা প্রশমিত করতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে জটিল অবস্থায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে এগোতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি বর্তমানে জটিল ও পরিবর্তনশীল। এই অবস্থায় বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্ব রাজনীতির এই সংবেদনশীল সময়ে ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এই সফরের ফলাফল ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।