ক্লাস চলাকালীন ফ্যান পড়ে আহত ৫ শিক্ষার্থী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৭ বার
সিলিং ফ্যান পড়ে আহত বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময় হঠাৎ সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ করেই সিলিং ফ্যানটি খুলে নিচে পড়ে যায়, এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী সরাসরি আহত হয়।

আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাঞ্জল ও জাহানারা নামের দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানা গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পরে স্থানীয়ভাবে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর হলেও সবাই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. মশিউর রেজা সজীব। তিনি জানান, তিনি স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ক্লাস রুমে প্রবেশ করার মুহূর্তেই সিলিং ফ্যানটি খুলে পড়ে যায়। তার ভাষায়, সৌভাগ্যক্রমে ফ্যানটি সরাসরি কারও মাথায় পড়েনি, না হলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি আবু জাফর জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার উপস্থিতিতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। ভবনটির কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আহমেদ বলেন, ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ফ্যানটি খুলে পড়ে যায়। তিনি স্বীকার করেন যে বিদ্যালয়ের ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। তবুও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণে দেরি করা হচ্ছে। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকেই দাবি করেন, শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস চালানো গুরুতর অবহেলা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব ভবনে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় এখন এক ধরনের শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বিরাজ করছে। অভিভাবকরা বলছেন, সন্তানদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হলে তাদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়েও তারা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত