মুখে ঘা হওয়ার পেছনে যেসব ভিটামিন দায়ী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
মুখে ঘা সাধারণত কিছু ভিটামিনের অভাবে হতে পারে

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মুখে ঘা একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত অস্বস্তিকর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা অনেক সময় দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে মুখে ঘা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক দুর্বলতা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখে ঘা হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি। এই ভিটামিন শরীরের স্নায়ুতন্ত্র এবং রক্ত তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক নিরামিষভোজী মানুষের শরীরে ভিটামিন বি১২ এর অভাব বেশি দেখা যায়, যা মুখে বারবার ঘা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এর পাশাপাশি জিহ্বায় জ্বালাভাব, লালচে হয়ে যাওয়া এবং মুখের ভেতরে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এই ভিটামিনের অভাবে মুখের কোণে ফাটল দেখা দেওয়া, ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং জ্বালাপোড়া অনুভূতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটতি থাকলে মুখের ভেতরে ঘা আরও ঘন ঘন হতে পারে।

ভিটামিন সি-এর অভাবও মুখে ঘা হওয়ার একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। শরীরে ভিটামিন সি কম থাকলে মাড়ি থেকে রক্তপাত, মুখের ভেতরে ক্ষত তৈরি হওয়া এবং ধীরে ধীরে ঘা সেরে না ওঠার প্রবণতা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, তাই এর ঘাটতি হলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

শুধু ভিটামিন নয়, আরও কিছু কারণেও মুখে ঘা হতে পারে। যেমন শরীরে আয়রনের অভাব থাকলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়, যা মুখের ভেতরে ঘা হওয়ার একটি সাধারণ কারণ। এছাড়া অতিরিক্ত ঝাল বা টক খাবার গ্রহণ, মানসিক চাপ বা স্ট্রেস, গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা এবং মুখে আঘাত লাগার কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ফাস্ট ফুডের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা মুখে ঘা হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ না করায় শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, মুখে ঘা প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্য গ্রহণ। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, দুধ এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। এসব খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সরবরাহ করে, যা মুখের ঘা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

পানি পান করার অভ্যাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং মুখের ভেতরের শুষ্কতা কমায়, যা ঘা হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে। পাশাপাশি মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকরা আরও বলেন, যদি কারও বারবার মুখে ঘা হয় বা দীর্ঘদিন ধরে ঘা না সারে, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি কখনো কখনো শরীরের অভ্যন্তরীণ জটিলতার লক্ষণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে মুখে ঘা শুধুমাত্র একটি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতি ও জীবনযাত্রার নানা বিষয় জড়িত। সচেতনতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত