বিজয়ের সাফল্যে আবেগে ভাসলেন বাবা চন্দ্রশেখর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১৩ বার
বিজয়ের সাফল্যে আবেগে ভাসলেন বাবা চন্দ্রশেখর

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নাটকীয় অধ্যায়ের পর অবশেষে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া থালাপতি বিজয় তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য অর্জনের পর এখন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, আবেগের ঢেউ বয়ে গেছে তার পরিবারেও।

১০৮টি আসনে জয় পাওয়ার পরও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েন। কয়েক দিনের জল্পনা-কল্পনা ও জোট রাজনীতির আলোচনার পর অবশেষে রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন থালাপতি বিজয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস, আবেগ এবং নতুন প্রত্যাশার পরিবেশ।

বিজয়ের এই অভাবনীয় উত্থানকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত হয়েছেন তার বাবা, দক্ষিণী চলচ্চিত্র পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখর। ছেলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনের সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং আজকের বাস্তবতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিজয়ের শৈশব সহজ ছিল না। আর্থিক সংকট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাদের পরিবারকে এগোতে হয়েছে। অনেক সময় এমনও গেছে যখন দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই কঠিন সময়ে তিনি স্বপ্ন দেখতেন, তার ছেলে একদিন বড় কিছু করবে এবং মানুষের জন্য কাজ করবে।

এসএ চন্দ্রশেখর আবেগভরা কণ্ঠে জানান, আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, শপথগ্রহণের মুহূর্তে যখন তিনি তার ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে দেখেন, তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় গর্ব আর কিছু হতে পারে না।

বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালে, যখন তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম গঠন করেন। চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা তাকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই তার দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করে।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তামিলনাড়ুর রাজনীতি ছিল চরম উত্তেজনায়। বিভিন্ন জোট ও রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে চলতে থাকে আলোচনার ঝড়। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজয় শপথ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।

চন্দ্রশেখর বলেন, বিজয় সবসময়ই শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী ছিল। তার জীবনের প্রতিটি ধাপে সে কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং কখনো হাল ছাড়েনি। মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি যখন সহপরিচালক হিসেবে কাজ করতাম, তখন আমাদের পরিবার অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে। খাবার জোগাড় করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ত। কিন্তু বিজয় সবকিছু মনে রেখেছে এবং সেই অভিজ্ঞতাগুলো তাকে আজ আরও শক্তিশালী করেছে।

বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানকে অনেকেই দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। চলচ্চিত্র জগতে যেমন তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তেমনি রাজনীতিতেও দ্রুত জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো মানুষ বিজয়ের নামে স্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো স্টেডিয়াম। আবেগ, প্রত্যাশা এবং নতুন নেতৃত্বের আশায় ভরে ওঠে পুরো আয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই উত্থান ভবিষ্যতে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিবারের আবেগ, রাজনৈতিক সাফল্য এবং জনগণের প্রত্যাশা মিলিয়ে থালাপতি বিজয়ের এই যাত্রা এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তার বাবা এসএ চন্দ্রশেখরের গর্বিত মন্তব্য সেই যাত্রাকে আরও মানবিক ও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে, যা শুধু রাজনৈতিক গল্প নয়, বরং এক জীবনের সংগ্রাম ও স্বপ্নপূরণের অনন্য কাহিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত