সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬২ হাজার হজযাত্রী, মৃত্যু ১৭

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৮ বার
সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬২ হাজার হজযাত্রী, মৃত্যু ১৭

প্রকাশ: ১৮ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সৌদি আরবে সমবেত হন। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছরের মতো এবার বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে। হজযাত্রীদের বহনকারী একের পর এক ফ্লাইট সৌদি আরবে পৌঁছাচ্ছে। তবে আনন্দ ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মধ্যেও উদ্বেগের খবর হয়ে এসেছে কয়েকজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ হজ বুলেটিন অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মোট ৬২ হাজার ৫২৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি—দুই ব্যবস্থাপনাতেই যাত্রীরা হজ পালন করতে গেছেন। একই সঙ্গে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবে গেছেন ৪ হাজার ৪৪৪ জন হজযাত্রী। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৫৮ হাজার ৮৪ জন। প্রতি বছরের মতো এবারও বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই অধিকাংশ হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে একাধিক এয়ারলাইনস সমন্বিতভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এ পর্যন্ত মোট ১৬১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা Biman Bangladesh Airlines পরিচালিত ৮২টি ফ্লাইটে গেছেন ৩২ হাজার ৫০৮ জন যাত্রী। এছাড়া Saudia পরিচালিত ৫৭টি ফ্লাইটে পরিবহন করা হয়েছে ২১ হাজার ১৬১ জন হজযাত্রী। অপরদিকে সৌদি আরবের বেসরকারি বিমান সংস্থা Flynas পরিচালিত ২২টি ফ্লাইটে গেছেন আরও ৮ হাজার ৮৫৯ জন।

হজযাত্রীদের যাত্রা ঘিরে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, বিশেষ করে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে আবেগঘন পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানিয়ে অনেকে অশ্রুসজল চোখে রওনা হচ্ছেন জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ধর্মীয় সফরে। কেউ প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের সঞ্চয় আর অপেক্ষার পর হজের সুযোগ পেয়েছেন।

তবে এই আনন্দযাত্রার মধ্যেই দুঃখজনক খবর হিসেবে সামনে এসেছে মৃত্যুর তথ্য। বুলেটিন অনুযায়ী, সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী। তাদের অধিকাংশই বার্ধক্যজনিত জটিলতা, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে পবিত্র নগরী Mecca-তে এবং ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে Medina-তে। তবে এখন পর্যন্ত জেদ্দা, মিনা, আরাফা কিংবা মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজ মৌসুমে অতিরিক্ত গরম, শারীরিক ক্লান্তি এবং দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে বয়স্ক হজযাত্রীরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন।

প্রতি বছর হজ মৌসুমে বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টিম পাঠানো হয়। এছাড়া সৌদি আরবেও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মেডিকেল সেন্টার চালু রাখা হয়, যাতে জরুরি চিকিৎসাসেবা দ্রুত নিশ্চিত করা যায়।

এবারের হজ আয়োজনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার ৩০টি লিড হজ এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। এসব এজেন্সির মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের আবাসন, পরিবহন, খাবার এবং অন্যান্য সেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি চলছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই অনুযায়ী সৌদি আরবে এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের উপস্থিতি। মক্কা ও মদিনার হোটেল, সড়ক এবং ইবাদতের স্থানগুলো ইতোমধ্যে হজযাত্রীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৫ জন। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কোটা রয়েছে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনের। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি মুসল্লি এ বছর হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।

গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২১ মে পর্যন্ত হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এরপর হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আগামী ৩০ মে থেকে দেশে ফিরতে শুরু করবেন হজযাত্রীরা। শেষ ফিরতি ফ্লাইট দেশে পৌঁছাবে আগামী ৩০ জুন।

হজ শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং মুসলমানদের জন্য এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও ঐক্যের এক মহাসম্মেলন। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হাজারো মানুষ সেখানে গিয়ে নিজেদের জন্য, পরিবারের জন্য এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করছেন। একই সঙ্গে যারা ইন্তেকাল করেছেন, তাদের জন্যও দেশবাসীর পক্ষ থেকে দোয়া ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাকি হজ মৌসুমেও স্বাস্থ্যসচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এবং অতিরিক্ত ভিড় ও গরম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পবিত্র হজকে ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, সৌদি আরবে যাওয়া প্রতিটি হজযাত্রীর মুখে সেই অনুভূতির প্রতিফলনই এখন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত