প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) গুরুত্বপূর্ণ সভা শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় এ সভা শুরু হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নের প্রাথমিক দিকনির্দেশনা নিয়ে এ সভায় বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এনইসি সভাটি বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত। এখানে সাধারণত দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক খাতের অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য এবং সরকারি বিনিয়োগের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ফলে এই সভার সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় উন্নয়ন বাজেট ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সভায় সভাপতিত্ব করছেন সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রধান ব্যক্তি। তবে প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির বক্তব্য ও আলোচনার পূর্ণ বিবরণ পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
সভায় মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়েছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ নিয়ে এখানে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য অনুযায়ী কীভাবে সীমিত সম্পদকে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সভা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি খাতে অস্থিরতা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহের অনিশ্চয়তা দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে এডিপি প্রণয়নে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের এডিপিতে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল রূপান্তর, শিক্ষা প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রকল্পগুলো নিয়ে বিশেষ আলোচনা চলছে।
সভা চলাকালে দেশের রাজস্ব আয়, বৈদেশিক সহায়তা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যায়, যা সামগ্রিক উন্নয়ন প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। এ বিষয়গুলো নিয়েও এনইসি সভায় পর্যালোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত ও আলোচনার ফলাফল জানানো হবে। সাধারণত এনইসি সভার পর সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কাঠামো ও অগ্রাধিকার প্রকাশ করে, যা পরবর্তী বাজেট প্রণয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ফলে এই সভার সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করে শুধু বরাদ্দের ওপর নয়, বরং প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান ও সময়মতো কাজ শেষ করার সক্ষমতার ওপর। তাই এবারের সভায় শুধু নতুন প্রকল্প নয়, চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিও গুরুত্ব পেতে পারে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন ব্যয়কে আরও কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, টেকসই অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হচ্ছে।
এনইসি সভাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন খাতের খসড়া বরাদ্দ ও প্রকল্প তালিকা পর্যালোচনা করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে থাকা সত্ত্বেও দেশের উন্নয়ন প্রবাহ সচল রাখতে এবারের এডিপি হবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার প্রতিফলন।
সভা শেষে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলে জানা যাবে, কোন খাতে কত বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সরকারের আগামী অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার কী হতে যাচ্ছে।