সোনারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণে নিহত ৩

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
সোনারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণে নিহত ৩

প্রকাশ: ১৮ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। কাওসার (৩০) নামে ওই ব্যক্তির শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সোমবার (১৮ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাওসার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দগ্ধ অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ১৩ মে দুপুরের খাবার সময় মেঘনাঘাটের ওই পাওয়ার প্ল্যান্টের ক্যান্টিনে আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হঠাৎ বিকট শব্দে ক্যান্টিনে থাকা কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ও ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় সেখানে অন্তত ১২ জন কর্মী ছিলেন। তারা সবাই গুরুতর দগ্ধ হন।

দগ্ধদের মধ্যে ছিলেন নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), আমির (২৫), শংকর (২৫), কাওসার (৩০), তুহিন শেখ (৩০), মনির হোসেন (৪৫), আল আমিন (৪০), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) ও বদরুল হায়দার (৫০)। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১২ জন দগ্ধের মধ্যে ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বাকি ছয়জনের মধ্যে থেকে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এই ঘটনার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ক্যান্টিন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা থাকলে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, দগ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথম ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শরীরের সংক্রমণ, শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা হ্রাসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। কাওসারের মতো যাদের শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়, তাদের বাঁচিয়ে রাখা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘর বা গ্যাস লাইন থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালের বাইরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অনেকেই এখনও প্রিয়জনের সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষায় আছেন, যদিও চিকিৎসকরা তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা নিয়ে সতর্ক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ক্যান্টিন ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তারা আরও বলেন, শিল্প খাতে নিরাপত্তা সংস্কৃতি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

সোনারগাঁওয়ের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশের শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি কঠিন প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন অনেকে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন আহতদের অবস্থার ওপর নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। পরিবারগুলোও দোয়া ও আশায় অপেক্ষা করছে প্রিয়জনদের সুস্থতার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত