প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে দুই চাচাতো ভাইকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিরোধ একসময় সহনশীল পর্যায়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়।
সোমবার (১৮ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন একই গ্রামের ইয়াছিন আলী (৩৩) এবং সুমন মোল্লা (৩৫)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই এবং দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একসময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ইয়াছিন আলী ও সুমন মোল্লা গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই ইয়াছিন আলীর মৃত্যু হয় এবং পরে সুমন মোল্লাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার সালিশ ও স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি। শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধই প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘাত না ঘটে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাহাত মন্ডল (২১) নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে। তবে এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে দুই চাচাতো ভাইয়ের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ সমাজে জমি সংক্রান্ত বিরোধ এখনো একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং স্থানীয়ভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না হওয়ায় অনেক সময় এসব বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেয়। ফলে প্রাণহানি ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের দুই সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পেছনে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত সকলকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।