প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তারা। রোববার সন্ধ্যায় পরিচালিত অভিযানে তাদের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ১২ হাজার পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে পাপন (৪৫) এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস এনি (৩২)। ডিএনসি জানিয়েছে, রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ বনশ্রীর একটি ভাড়া ফ্ল্যাটকে তারা মাদক মজুত ও বেচাকেনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর প্রতীক হাউজিং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ‘জে’ ব্লকের ১২/৪ নম্বর রোডের ৭৮ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। পরে ফ্ল্যাটটির একটি কক্ষের আলমারির ওপরে রাখা একটি ব্যাগের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো অত্যন্ত কৌশলে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যাতে সাধারণভাবে কেউ সন্দেহ করতে না পারে। অভিযানের সময় বাসার ভেতরেই অবস্থান করছিলেন জহিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পেরেছে, এই দম্পতি বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা মূলত একটি নিরাপদ আবাসিক এলাকা বেছে নিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন, যাতে সহজে সন্দেহের উদ্রেক না হয়।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোড এলাকায়। সেখানে তার নিজস্ব পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে। তবে নজর এড়াতে এবং মাদক সংরক্ষণের সুবিধার্থে প্রায় তিন মাস আগে দক্ষিণ বনশ্রীর এই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই ফ্ল্যাট থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করা হতো।
অভিযান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে মাদক কারবারিরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কৌশলী হয়ে উঠেছে। তারা অভিজাত বা নিরিবিলি আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে মাদক মজুত ও বেচাকেনা করছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে হচ্ছে।
ডিএনসির উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইয়াবাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হতো এবং কারা এর ক্রেতা ছিল, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু বড় চালান জব্দ করেছে। বিশেষ করে ইয়াবা পাচার ও সরবরাহ চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবুও নানা কৌশলে মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক শুধু ব্যক্তিজীবন ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের ওপরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারিবারিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এদিকে দক্ষিণ বনশ্রীর আবাসিক এলাকায় এমন একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সাধারণ পরিবার পরিচয়ে বসবাস করলেও কেউ কেউ গোপনে ভয়ংকর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, যা আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানীতে মাদক নির্মূল অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।