চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ১৮ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘ কয়েক দিনের চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে তিনি সোমবার (১৮ মে) সকালে দেশে পৌঁছান বলে নিশ্চিত করেছে বঙ্গভবনের প্রেস উইং। রাষ্ট্রপতির সুস্থভাবে দেশে ফেরা নিয়ে সরকারি মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফর শুরু হয় ৯ মে, যখন তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনের পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, তবে পরবর্তীতে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত বিষয় সামনে আসে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার হৃদযন্ত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়ে। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরপর ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে তার এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং হৃদযন্ত্রে একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়, যা হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় যুক্তরাজ্যের একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত হাসপাতাল Royal Papworth Hospital-এ। হাসপাতালটি কার্ডিওলজি এবং হার্ট সার্জারির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। সেখানে রাষ্ট্রপতির চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করেন অভিজ্ঞ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এনজিওগ্রাম ও পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে। সফল চিকিৎসার পর রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং পর্যবেক্ষণ শেষে তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।

বঙ্গভবনের প্রেস উইং জানায়, চিকিৎসা শেষে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন। দেশে ফেরার পর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি। রাষ্ট্রপতির সুস্থতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় চিকিৎসকরাও তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

রাষ্ট্রপতির চিকিৎসা সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিভিন্ন মহল থেকে তার সুস্থতা কামনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনও তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিবৃতি দেয়। সাধারণ মানুষের মধ্যেও রাষ্ট্রপ্রধানের সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ ও দোয়ার আবহ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্রে ব্লক ধরা পড়ার পর দ্রুত এনজিওপ্লাস্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হয়। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এই ধরনের প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।

চিকিৎসা বিশ্লেষকরা আরও বলেন, স্টেন্ট স্থাপনের পর রোগীকে কিছুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস, বিশ্রাম এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এই ধরনের চিকিৎসার সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পর্যায়েও প্রস্তুতি ছিল। তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। দেশে ফেরার পর তিনি বঙ্গভবনে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাভাবিক কার্যক্রমে ধীরে ধীরে ফিরে আসবেন বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই চিকিৎসা সফর দেশের উচ্চ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বদের স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বকেও আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জটিল রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে—এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতির সুস্থভাবে দেশে ফেরা দেশের মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে। এখন তার পূর্ণ সুস্থতা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে দ্রুত প্রত্যাবর্তনই সবার প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত