জবিতে ঈদ ও গ্রীষ্মে টানা ১৬ দিনের ছুটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
জবিতে ঈদ ও গ্রীষ্মে টানা ১৬ দিনের ছুটি

প্রকাশ: ১৮ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি একসঙ্গে মিলিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ঘোষণা করা হয়েছে টানা ১৬ দিনের দীর্ঘ অবকাশ। আসন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়ি ফেরা, ভ্রমণ এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রস্তুতি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে। পরে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস বন্ধ থাকবে। একই সময়ের মধ্যে ২৪ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সব ইনস্টিটিউট, বিভাগ এবং দপ্তরের কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে। ফলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দুই ক্ষেত্রেই কার্যত পুরো বিশ্ববিদ্যালয় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরতিতে যাচ্ছে।

ছুটির সময়সূচি অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ মে সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি থাকায় মূলত কার্যক্রম আগেই বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি একসঙ্গে মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়েছে। ছুটি শেষে ৫ ও ৬ জুন আবারও সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য মোট অবকাশ দাঁড়াচ্ছে টানা ১৬ দিনে।

রবিবার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস, বিভাগীয় কার্যক্রম এবং দাপ্তরিক কাজ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ছুটিকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সেবা সচল থাকবে বলে জানানো হয়।

জরুরি সেবার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, নিরাপত্তা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো মৌলিক সেবা। প্রশাসন জানিয়েছে, ছুটির সময়েও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত ঈদ ও মৌসুমি ছুটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে থাকে। তবে এবার ঈদুল আজহার সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন ছুটি একত্রে পড়ায় অবকাশের সময়সীমা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়েছে, তেমনি অনেকে এই সময়টিকে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ এই ছুটি তাদের মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেবে। বিশেষ করে শহরের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বাড়ি যাওয়ার একটি বড় সুযোগ। একই সঙ্গে অনেকেই এই সময়টিকে পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত প্রস্তুতির জন্যও ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।

অন্যদিকে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্যও এই ছুটি এক ধরনের বিরতি এনে দেবে, যার মাধ্যমে তারা পরবর্তী সেমিস্টারের প্রস্তুতি নিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ছুটি শেষে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী। তবে ছুটির সময়েও কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সেবা চালু থাকবে।

সব মিলিয়ে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির এই সমন্বিত সিদ্ধান্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক দীর্ঘ বিরতির সুযোগ তৈরি করেছে, যা তারা পরিবার, বিশ্রাম এবং ব্যক্তিগত প্রস্তুতির কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত