মুশফিকের ব্যাটে নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৩৮ বার
Mushfiqur Rahim

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের জন্ম দিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান টেস্ট ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতা ও দৃঢ় মানসিকতার আরেকটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই ইনিংস।

এই সেঞ্চুরির আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড যৌথভাবে ছিল মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের দখলে। দুজনেরই ছিল ১৩টি করে সেঞ্চুরি। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে শতরান পূর্ণ করার মাধ্যমে মুশফিক এককভাবে সেই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। এখন বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১৪টি সেঞ্চুরির মালিক তিনি।

সিলেটের মাঠে তার এই ইনিংস শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। কারণ প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এখনও জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার প্রতীক হয়ে আছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

ম্যাচের শুরু থেকেই মুশফিকুর রহিম ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। উইকেটে থিতু হওয়ার পর ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি ইনিংস গড়ে তোলেন। পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে দৃঢ়তা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম অর্ধশতক পূর্ণ করার পর থেকেই দর্শকদের প্রত্যাশা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার পর পুরো স্টেডিয়ামে করতালির ঝড় ওঠে। সতীর্থরাও দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে।

এই ইনিংসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তিন সংস্করণ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনিই। তার এই অর্জন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য গর্বের এক অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুশফিকুর রহিমের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার মানসিক দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতা। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা, চাপ এবং ইনজুরির মুখোমুখি হলেও তিনি বারবার নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে তার ধৈর্য ও লড়াই করার মানসিকতা বাংলাদেশ দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বড় সম্পদ হয়ে আছে।

৩৯ বছর বয়সেও তার ফিটনেস ও পারফরম্যান্স তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় ২১ বছর পূর্ণ হতে চললেও এখনো তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে নিজেকে ধরে রেখেছেন।

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের অবদান শুধুমাত্র রান বা রেকর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তিনি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

অন্যদিকে মুমিনুল হকের রেকর্ড ভাঙলেও তাকে নিয়ে শ্রদ্ধা ও প্রশংসার কমতি নেই। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে মুমিনুলও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে এবার সেই তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেলেন মুশফিকুর রহিম।

বর্তমান ম্যাচে তার সেঞ্চুরি বাংলাদেশের ইনিংসকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান সংগ্রহ করেছে। দলের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে মুশফিকের ইনিংস ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই ইনিংস শুধু একটি শতরান নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলার এক প্রতীকী মুহূর্ত। বছরের পর বছর ধরে দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়া এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে এমন ঐতিহাসিক ইনিংস আবারও প্রমাণ করল, অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস মিললে বয়স কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটের মাঠে মুশফিকুর রহিমের এই সেঞ্চুরি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন রেকর্ড, ১৬ হাজার রানের মাইলফলক এবং দলের জন্য দায়িত্বশীল ইনিংস—সবকিছু মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য অর্জনের দিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com