প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করা এবং বাজারের মূল্যপরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো এক বড় অর্থনৈতিক সাফল্য। সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা উচ্চমানের ও উন্নত পুষ্টিগুণসম্পন্ন গমের এক বিশাল চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। সবমিলিয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি পরিমাণের এই পুষ্টিকর গম খালাসের কাজ আন্তর্জাতিক নৌ-বন্দরে শুরু হওয়ায় দেশের সামগ্রিক খাদ্যশস্য মজুত ব্যবস্থায় বিপুল গতি সঞ্চারিত হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ কূটনৈতিক সংবাদ বার্তায় বাংলাদেশের সাথে আমেরিকার কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের এই অগ্রগতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রয় করা সর্বমোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মানসম্মত ও প্রোটিনসমৃদ্ধ গমের যে বিশাল ক্রয়চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ানো চালানের গম তারই এক প্রধান অংশ। ইতোমধ্যে মূল ক্রয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ গম জাহাজ থেকে সফলভাবে খালাস ও পরিদর্শনের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। বাকি থাকা গমের নির্ধারিত চালানসমূহও অতি দ্রুত সাগরের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে দেশের পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আমেরিকার দূতাবাস থেকে জারীকৃত ওই বিশেষ বার্তায় উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ গুণসম্পন্ন এই গমের সরবরাহ সরাসরি বাংলাদেশের জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে আটা, ময়দাসহ বিভিন্ন গমজাত খাদ্যপণ্যের যে ধারাবাহিক উচ্চ চাহিদা রয়েছে, তা মেটাতে এবং বাজারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই বিশাল আমদানি সরাসরি প্রভাব ফেলবে। একই সাথে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক অংশীদারি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারে অত্যন্ত ইতিবাচক ক্ষেত্র তৈরি করবে।
প্রকাশিত কূটনৈতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বমোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মানসম্মত গম ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো বিশাল এই চালানটি সেই চুক্তিকৃত গমেরই প্রধান ও বৃহৎ একটি অংশ। ইতোমধ্যে মোট বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশ গম দেশে এসে পৌঁছেছে, যা দেশের সরকারি ও বেসরকারি গুদামগুলোতে আপৎকালীন খাদ্যশস্যের শক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। অবশিষ্ট গমের চালানসমূহও দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে করে সাগরের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বাৎসরিক গমের সার্বিক চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার একটি বড় অংশ বিশ্ববাজার থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। বিশ্বের খাদ্যশস্য উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর অন্যতম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্যশস্য নিয়মিত আমদানি দেশের সার্বিক প্রোটিন চাহিদার যোগান সহজ করবে। তাছাড়া সমুদ্রপথে একসাথে বিশাল পরিমাণ খাদ্যপণ্য বন্দরে পৌঁছানোয় দেশের সরকারি গুদামগুলোতে আপৎকালীন খাদ্য শস্যের সংরক্ষিত মজুত এক লাফে অনেকটাই নিরাপদ সীমানায় পৌঁছে গেল, যা সম্ভাব্য যেকোনো বৈশ্বিক বাজার অস্থিরতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা এই বিশালাকার গমের চালান খালাসকরণ এবং সেগুলোর গুণগত মান নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া তদারকি করছেন। বন্দর থেকে এই গম দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন গুদাম ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের বিশ্বাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গমের এই বিশাল ও সময়োপযোগী আগমন দেশের স্থানীয় বাজারে গমের বাজারে যেকোনো সম্ভাব্য কৃত্রিম সংকট রোধ করতে কার্যকরের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি প্রদান করবে এবং বাংলাদেশকে খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতার শক্ত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা পালন করবে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত