প্রবাসীরাই দেশের উন্নয়নের শক্তি বললেন মাসুদ সাঈদী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ২৬ বার
চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছেন প্রবাসীরা। তাদের শ্রম, মেধা, ত্যাগ এবং বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে গতিশীল করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন পেশাজীবী, প্রবাসী শেয়ারহোল্ডার এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদী আলোচনা।

মাসুদ সাঈদীর মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একটি বেসরকারি পর্যটন ও আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি. এম. ইমদাদুল হক। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের পর্যটন শিল্প, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং প্রবাসীদের সম্পৃক্ততার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই প্রবাসীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রবাসীরা বলেন, তারা শুধু রেমিট্যান্স পাঠিয়েই দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছেন না, বরং বিদেশে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকেও তুলে ধরছেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হালাল পর্যটন একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হয়েছে। মুসলিম পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় রেখে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশও এই খাতে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি অঞ্চল এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নত করা গেলে দেশের পর্যটন অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডি. এম. ইমদাদুল হক বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রচারণা। তিনি বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগ এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে দেশের পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশের জন্য কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। তবে তাদের জন্য স্বচ্ছ ও নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় সভাপতিত্বকারী ড. অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে তারা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ সাঈদী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শুধু পরিবার নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় প্রবাসীদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশের পর্যটন, শিল্প এবং বিনিয়োগ খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা ছাড়া এই অগ্রগতি পূর্ণতা পাবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব। তিনি মনে করেন, প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ এই খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, দেশের প্রতি তাদের আবেগ ও ভালোবাসা সবসময়ই অটুট। তারা চান দেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে। কেউ কেউ পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহও প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে অতিথিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত সবাই একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতৃত্বের এমন সংযোগ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।

সব মিলিয়ে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল দেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং প্রবাসীদের অবদান নিয়ে এক আশাবাদী বার্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত