প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে সংক্রামক রোগ হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম এবং এর উপসর্গে আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৭ জন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত একদিনে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ২ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে হাম-সদৃশ উপসর্গে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলমান প্রাদুর্ভাবের দুই মাসে দেশে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সময়ে মোট ৪৭৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭৭ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং ৩৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হাম-সম্পর্কিত উপসর্গে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম মূলত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের বর্তমান হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একাধিক জেলায় একই সময়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। শিশু ওয়ার্ডগুলোতে চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে অতিরিক্ত শয্যা ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেসব শিশু এখনো হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি, তাদের দ্রুত টিকাদান কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান ক্যাম্পেইন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজরদারি চলছে।
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে র্যাশের মাধ্যমে শুরু হয়। তবে রোগটি জটিল হলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং অন্যান্য প্রাণঘাতী সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে এবং নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
দেশজুড়ে একের পর এক শিশুর মৃত্যুর খবরে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় টিকা কেন্দ্রগুলোতে ভিড়ও বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিকাদান কার্যক্রমই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু চিকিৎসা নয়, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং শিশু মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হয়।