হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ‘পাগলা ঘণ্টা’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৭ বার
হাসপাতাল নিরাপত্তা অ্যালার্ম ব্যবস্থা

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর বড় দুটি সরকারি হাসপাতালে প্রথম ধাপে সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম, যাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘পাগলা ঘণ্টা’ বলা হচ্ছে, স্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) অনুদান হিসেবে পাওয়া ভেন্টিলেটর ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতি, সহিংসতা বা আকস্মিক বিপদের মুহূর্তে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করতে আধুনিক অ্যালার্ম সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রায়ই রোগীর স্বজন বা দর্শনার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলা কিংবা সহিংস ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়, যা চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। এ ধরনের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি অ্যালার্ম সিস্টেম কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, এই সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো ওয়ার্ড বা ইউনিটে জরুরি সংকেত দেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল প্রশাসন, নিরাপত্তা কর্মী এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা যাবে। ফলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত ‘কোড ব্লু’ বা জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু প্রযুক্তি নয়, হাসপাতালগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের নিরাপত্তা বাড়াতে পৃথক পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা প্রদানের পরিবেশ আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে তিনি স্বাস্থ্য খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতালে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ ইউনিট শক্তিশালী করতে নতুন ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে দশটি জেলা হাসপাতালে দশটি আইসিইউ ইউনিটের জন্য একটি করে শিশু ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, কর্মস্থলে বিশৃঙ্খলা এবং রোগী ও স্বজনদের অসন্তোষজনিত ঘটনার কারণে হাসপাতাল পরিবেশ অনেক সময় অস্থির হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর অ্যালার্ম ব্যবস্থা চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের জন্যই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ত চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে হাসপাতালের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি চিকিৎসকরা আরও নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, যা রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ‘পাগলা ঘণ্টা’ বা সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম চালুর উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে হাসপাতাল পরিবেশ আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলিত এবং কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত