প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার আদালতে আলোচিত একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়ে গেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াব্যক্তিত্ব ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় নতুন করে আগামী ২৭ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা দাখিল করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুদকের পক্ষ থেকে প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত থেকে প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর আদালত শুনানি শেষে সময় বৃদ্ধি করে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। মামলার অগ্রগতি নিয়ে আদালতপাড়ায় উপস্থিত আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শেয়ারবাজারে পরিকল্পিতভাবে কারসাজি চালিয়ে আসছিল। চক্রটি কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করত। পরে উচ্চমূল্যে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হতো।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এই কারসাজির মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে শত শত কোটি টাকার লেনদেন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আবুল খায়ের ওরফে হিরু নামের এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি শেয়ারের কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনে বিনিয়োগ করেছিলেন Shakib Al Hasan। অভিযোগ অনুযায়ী, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং সোনালী পেপারসের মতো শেয়ারে তার বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি বাজার কারসাজির সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবৈধ লাভ করেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।
মামলা দায়েরের পরপরই আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেয়। গত ১৬ জুন আদালত সাকিব আল হাসান-এর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সময় থেকেই মামলাটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ক্রীড়া, অর্থনীতি ও আইন অঙ্গনে এ মামলার অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের সময় বারবার পেছানো নিয়ে আদালতপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, এ ধরনের অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় তদন্তে সময় বেশি লাগা অস্বাভাবিক নয়, কারণ এতে জটিল আর্থিক লেনদেন, ব্যাংকিং তথ্য ও শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বহু নথি যাচাই করতে হয়। আবার অন্যদিকে, সাধারণ নাগরিকদের একটি অংশ দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হয়।
এদিকে, দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। তারা আশা প্রকাশ করেছে, পরবর্তী তারিখের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই মামলার অগ্রগতি দেশের পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে অনিয়ম ও কারসাজি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, এই ধরনের মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ক্রীড়া মহলে বিষয়টি নিয়ে সংযত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। সাকিব আল হাসান দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রিকেটার হওয়ায় মামলাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অনেকেই মন্তব্য করতে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।
আদালতের নতুন তারিখ ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলাটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এখন সবার নজর আগামী ২৭ জুলাইয়ের দিকে, যখন তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে মামলার অগ্রগতিতে নতুন মোড় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।