প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর কলাবাগান থানার নিখোঁজ উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকার (৩২)-এর সন্ধান পাওয়ার ঘটনা ঘিরে স্বস্তি ও রহস্য—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। প্রায় তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে তাকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। বর্তমানে তিনি রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকার পর থেকেই এসআই রাকিবুলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ওইদিন তিনি ব্যারাক থেকে সিভিল পোশাকে বের হয়ে যান এবং নির্ধারিত ডিউটিতে আর যোগ দেননি। দীর্ঘ সময় ধরে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। পরবর্তীতে তাকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়।
নিখোঁজ থাকার ২৪ দিন পর বুধবার (২০ মে) দুপুরে তার সন্ধান পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করেন কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক। তিনি জানান, রাকিবুল হাসানকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি কোথায় ছিলেন বা কীভাবে এই সময় অতিবাহিত করেছেন, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
ওসি ফজলে আশিক আরও বলেন, “তাকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। আমরা তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।” তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ করে শাহবাগ এলাকায় তাকে শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন, তবে বিস্তারিত মেডিকেল রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমনভাবে নিখোঁজ হওয়া এবং দীর্ঘ সময় তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়া—এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাইরে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও তদন্ত উভয় দিক থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, রাকিবুল হাসানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রথমে ব্যক্তিগত অনুপস্থিতি হিসেবে দেখা হলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। পরে তার সহকর্মী ও পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে দীর্ঘ সময় কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, উদ্ধার হওয়ার পর তিনি কী অবস্থায় ছিলেন বা কেন তিনি এই সময় আত্মগোপনে ছিলেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলার পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা সাধারণত নানা কারণে ঘটে থাকতে পারে—ব্যক্তিগত সংকট, মানসিক চাপ বা প্রশাসনিক জটিলতা—তবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে তদন্ত শেষ হওয়া জরুরি। তারা মনে করছেন, বিষয়টি কেবল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নয়, বরং এর পেছনের কারণ উদঘাটন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্য কীভাবে এতদিন নিখোঁজ থাকলেন এবং তার অবস্থান কেন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ প্রশাসন বলছে, এখনই কোনো ধরনের অনুমান করা ঠিক হবে না, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই রাকিবুলের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে রাখা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক ইউনিট কাজ শুরু করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা আশা করছেন, শিগগিরই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হবে, যা পুরো ঘটনাকে পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন এবং এই সময় কোথায় ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সহকর্মীদের মধ্যে তার উদ্ধারের খবরে স্বস্তি ফিরলেও পুরো ঘটনার রহস্য এখনো কাটেনি। অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি জটিল ও বহুমাত্রিক ঘটনা হতে পারে, যার পেছনে ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় দিকই জড়িত থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসানের উদ্ধার হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও ঘটনাটির পূর্ণ সত্য এখনো অজানা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ। এখন সবার নজর তদন্ত প্রতিবেদন ও তার নিজের বক্তব্যের দিকে, যা এই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।