দেশে হামে নতুন করে ৬ জনের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
দেশে হামে নতুন করে ৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগে নতুন করে মৃত্যু ও সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪০৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত একদিনে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে একজন করে মোট ৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ২ জনসহ ঢাকা বিভাগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর ঘটনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোগটির বিস্তার ও প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৪৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ও উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, নতুন করে ১৩৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২৭০ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৬৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৮৫৬ জনে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে মোট ৪৫ হাজার ১২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ১২০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে অবহেলা এ রোগের বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

তারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ ও শহুরে উভয় এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক পরিবার তাদের শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবা ব্যবস্থায় কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত টিকা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ধরনের সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুধু চিকিৎসা নয়, সামাজিক সচেতনতারও বড় ভূমিকা রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন মৃত্যু ও সংক্রমণ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত