সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং এনসিপি নেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন—কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এমন একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি এ বিষয়ে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে মুঠোফোনে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এই বক্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

শনিবার ৩০ মে কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এই মন্তব্যটি বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে জনমনে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা রাজনৈতিকভাবে বেশ স্পর্শকাতর রূপ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ দ্রুত গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন এবং

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বা তার সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ জেলা পরিষদ থেকে কোনো ধরনের নগদ অর্থ গ্রহণ করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যে অর্থের কথা বলা হচ্ছে তা মূলত তার নির্বাচনি এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারি নিয়ম মেনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই এখানে আসে না।

জনগণের মাঝে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা দূর করতে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হাসনাত আব্দুল্লাহ পরবর্তীতে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সাথে সরাসরি মুঠোফোনে কথা বলেন। শুধু ফোনালাপই নয়, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সেই কথপোকথনের একটি অডিও রেকর্ড তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। অডিওতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে বেশ শক্ত ভাষায় প্রশাসকের কাছে এই বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের কারণ জানতে চাইতে শোনা যায়।

ফেসবুকে প্রকাশিত সেই অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, যখন হাসনাত আব্দুল্লাহ সরাসরি ‘১৫ কোটি টাকা খাওয়ার’ বা ব্যক্তিগতভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান, তখন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি সুর নরম করে ব্যাখ্যা দেন যে, রাজস্ব খাতসহ জেলা পরিষদের অন্যান্য সব খাত মিলিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্বাচনি এলাকায় সরকারিভাবে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যেহেতু তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দেশের জন্য কাজ করছেন, তাই তাদের এলাকার উন্নয়নে এই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের উপজেলাতেও ১৫ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ গেছে।

মোস্তাক মিয়া ফোনালাপে আরও দাবি করেন, তিনি কোনোভাবেই বলেননি যে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজে এই টাকা খেয়েছেন বা আত্মসাৎ করেছেন। তার মূল বক্তব্য ছিল, দেশের এই দুই তরুণ নেতার দুটি উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মোট ২৫ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সম্ভবত উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তার এই বক্তব্যটিকে সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি বা সংবাদে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন, যার ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

এই ফোনালাপ ফাঁসের পর পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, উন্নয়ন বরাদ্দের শব্দচয়ন নিয়ে রাজনীতিতে এক ধরনের নতুন সচেতনতার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত