মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি ডা. জাহেদ। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের অগ্রগতির কারণে শ্রমবাজার পুনরায় পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ কারণে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ডা. জাহেদ জানান, মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা এবং কৃষি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে। ফলে শ্রমবাজার পুনরায় সচল হলে দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, সরকার চায় কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী হোক। অতীতের বিভিন্ন জটিলতা ও অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবিষয়ক আলোচনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এগিয়েছে। এর মধ্যে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক কল্যাণ এবং নিয়োগ ব্যয় কমানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুরোপুরি খুলে গেলে বাংলাদেশের হাজার হাজার চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শ্রমবাজার খোলার পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের যেন কোনো ধরনের শোষণ বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।
ডা. জাহেদ আরও বলেন, সরকার বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে এবং দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে বিদেশগমনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি চাকরিপ্রত্যাশীদের শুধুমাত্র অনুমোদিত সংস্থা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের শ্রমশক্তি দেশের অন্যতম বড় সম্পদ। সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
এদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা অনেক তরুণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত বা সীমিত থাকা সুযোগগুলো পুনরায় চালু হলে বহু পরিবার অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে।
শ্রমবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। তাই বিদেশে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, ভাষাজ্ঞান এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ইতিবাচক ফলাফলের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, শ্রমবাজার পুনরায় পুরোপুরি চালু হলে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে সরকারের আশাবাদ প্রবাসে কর্মসংস্থান প্রত্যাশী হাজারো মানুষের মধ্যে নতুন আশা সৃষ্টি করেছে। এখন দুই দেশের আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।