সর্বশেষ :
১২ বছর ধরে অচল একটি সেতু, দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আদালতের চীন সফরে সৌরবিদ্যুৎ চুক্তির সম্ভাবনা আওয়ামী লীগের মাঠে নামার সাহস নেই: জাহেদ তাজিয়া মিছিলে হামলার শঙ্কা নেই: ডিএমপি জনবল নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাস্ট ব্যাংক, আবেদন করতে পারবেন সারা দেশের প্রার্থীরা

আওয়ামী লীগের মাঠে নামার সাহস নেই: জাহেদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ২২ বার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলটির নেতা-কর্মীদের মাঠে নামার নৈতিক সাহস নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। তাই তারা কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে চাইলে সেটি আইনভঙ্গকারী কাজ হবে। সরকার তখন ব্যবস্থা নেবে। তার ভাষায়, দলটির মাঠে নামার নৈতিক সাহস নেই। তবে তাদের কাছে প্রচুর অর্থ আছে। সেই অর্থ ব্যবহার করে ছোটখাটো নাশকতা করার চেষ্টা হতে পারে। তাই সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি আদালতে বিচার শেষে নির্ধারিত হবে। কিন্তু এখন যেহেতু দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই দলীয় কর্মসূচি, মিছিল, সমাবেশ বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, সরকার এই অবস্থান থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “সেনাবাহিনী দেওয়ার মানে এই নয় যে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করে ফেলবে। অনেক কিছু করার নৈতিক সাহস তাদের আছে বলে মনে করি না।” তিনি আরও বলেন, কয়েকটি জেলায় ঝুঁকি কিছুটা বেশি মনে হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সরকার আওয়ামী লীগের বড় ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার আশঙ্কা করছে না। তবে ছোটখাটো নাশকতার সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটি কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সতর্ক অবস্থানের কথা জানা গেছে। কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তও সেই প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে তারা অনেক কিছু করবে। এ কারণে কিছু রাজনৈতিক দল হয়তো প্রতীকীভাবে মাঠে আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জনগণের স্মৃতি এত দ্রুত মুছে যায়নি। তার ভাষায়, “দেশের সবার ডিমেনশিয়া হলে তখন হয়তো আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে মনে হয় হবে না।”

তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মাফিয়া, চোর, বাটপার, লুটপাটকারীদের খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।” তার এ বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলকে ঘিরে সরকারপক্ষের ভাষা এখন আরও কঠোর হচ্ছে।

তবে আইনগত দিক থেকে বিষয়টি এখনও আদালত ও সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দল হিসেবে চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে বলে জাহেদ উর রহমান জানান। তিনি বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বিএনপি কী করবে, সেটি বিএনপির কাছে জানতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সরকারের সতর্কতা শুধু একটি দলের কর্মসূচি ঠেকানোর বিষয় নয়। এর সঙ্গে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা জড়িত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। পরে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে কোনো সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে সংশোধনী অনুমোদিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকে।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি হলে সেটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনভঙ্গ হিসেবে দেখবে বলে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তবে সরকার বলছে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আতঙ্ক তৈরির জন্য নয়। বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।

জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যে অর্থের মাধ্যমে নাশকতার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে বড় কর্মসূচি করার মতো অবস্থায় নেই। তবে সংগঠিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এই কারণে গোয়েন্দা নজরদারি, পুলিশি প্রস্তুতি এবং সেনা মোতায়েনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ বা কার্যক্রম স্থগিত দলকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নতুন নয়। তবে আওয়ামী লীগের মতো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা বড় রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল। দলটির অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে আছেন। কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। আবার অনেক জায়গায় তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় থাকতে পারে বলে সরকারপক্ষ মনে করছে। তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে প্রশাসন বাড়তি সতর্ক।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সফর খুব সফল হয়েছে বলে সরকার মনে করে। দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসিয়ানে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং শ্রমবাজার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কথা হয়েছে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ এ নিয়ে আশাবাদী। মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্যতম বড় গন্তব্য। শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত হলে হাজারো কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং প্রবাসী আয়ের ওপর তার প্রভাব পড়ে। তাই শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সরকারের আশাবাদ শ্রম খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সংকটে মালয়েশিয়ার সহায়তার প্রসঙ্গও ব্রিফিংয়ে উঠে আসে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার ভূমিকা বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, আঞ্চলিক মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট। তাই আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে ব্রিফিংয়ের মূল আলোচনায় ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি। সরকারপক্ষের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রশাসন একদিকে রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে আইনি অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে নিরাপত্তা প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। সরকারের দাবি, জনগণের নিরাপত্তাই এখন প্রধান বিবেচনা।

জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তীব্র। এতে আওয়ামী লীগের প্রতি কঠোর সমালোচনা আছে। তবে তিনি একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার কথাও বলেছেন। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি আদালতের বিচার শেষে নির্ধারিত হবে বলে তিনি জানান। এই অংশটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক মন্তব্যের বাইরে আইনি অবস্থান শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকার বলছে, নিষিদ্ধ কার্যক্রমের নামে কোনো কর্মসূচি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাহেদ উর রহমানের দাবি, আওয়ামী লীগের মাঠে নামার নৈতিক সাহস নেই। তবে নাশকতার আশঙ্কা মাথায় রেখে সরকার সতর্ক। সামনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত