সর্বশেষ :
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আদালতের চীন সফরে সৌরবিদ্যুৎ চুক্তির সম্ভাবনা আওয়ামী লীগের মাঠে নামার সাহস নেই: জাহেদ তাজিয়া মিছিলে হামলার শঙ্কা নেই: ডিএমপি জনবল নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাস্ট ব্যাংক, আবেদন করতে পারবেন সারা দেশের প্রার্থীরা দেশের অধিকাংশ ইটভাটা অবৈধ, কঠোর নজরদারির ঘোষণা সরকারের

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আদালতের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। তবে দলটি চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি সরকার এককভাবে ঘোষণা করার বিষয় নয়। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারে না। কেউ যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মসূচি পালন করতে চায়, তাহলে সেটি আইনভঙ্গের পর্যায়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির আলোচনা ছড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। Reuters জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে সরকার ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় সেনা মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জও রয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের অবস্থান খুব পরিষ্কার। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে দলীয় কর্মসূচি পালন করলে তা আইনসম্মত হবে না। তবে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত অবস্থান বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও আইনগত সিদ্ধান্ত আদালতেই হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা ব্যক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের পথ অনুসরণ করা জরুরি। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। আর আদালত বিচারিক বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেবে। এই দুই প্রক্রিয়া আলাদা। তাই দল নিষিদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে রাজনৈতিক স্লোগানের পর্যায়ে নামিয়ে আনা ঠিক নয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিনের বড় দল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলটির অবস্থান নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। দলটির বহু নেতা আত্মগোপনে যান, কেউ গ্রেপ্তার হন, আবার কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। Reuters-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সেই নিষেধাজ্ঞা দল ও নেতাদের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, তা এখন বড় আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন। সরকারপক্ষ বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা মানে দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ। কিন্তু দল হিসেবে চূড়ান্ত নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আদালতের বিচারের ওপর নির্ভর করবে। জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য সেই অবস্থানই নতুন করে স্পষ্ট করল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, সরকার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক। তবে সরকার এটিকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জায়গা থেকে দেখছে না। বরং জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখছে। কয়েকটি এলাকায় ঝুঁকি বেশি মনে হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো দলীয় তৎপরতা, মিছিল বা জমায়েত হলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও আইন ভাঙার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো বড় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। এর সঙ্গে নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, বিচার, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রশ্ন জড়িত। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা জরুরি।

জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা রয়েছে। তিনি একদিকে আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কথা বলেছেন। অন্যদিকে দল হিসেবে নিষিদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, সরকার আইনি প্রক্রিয়াকে সামনে রাখতে চাইছে।

তবে মাঠের রাজনীতি এখনো উত্তপ্ত। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিভিন্নভাবে দলীয় অবস্থান জানানোর চেষ্টা করছে বলে সরকারপক্ষের অভিযোগ। আবার সরকারের কঠোর অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী মহলে ক্ষোভ আছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তাই কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হলে সেটি আইনি প্রশ্ন তৈরি করবে। সরকার বলছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা যাবে না। অন্যদিকে আদালতই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না।

দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এই বক্তব্যের গুরুত্ব আছে। কারণ এটি শুধু একটি দলের ভবিষ্যৎ নয়, বরং রাজনৈতিক বিচার, দলীয় দায়, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ। সাধারণ মানুষও জানতে চায়, আইনের প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে রক্ষা হবে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য সরকারপক্ষের আইনি অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আদালতেই নির্ধারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত