ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরান, প্রতিটি হিটলিস্টে প্রেসিডেন্টের নাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৮ বার
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরান, প্রতিটি হিটলিস্টে প্রেসিডেন্টের নাম

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দানে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ইরান তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করছে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা তথ্য বর্তমানে মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ইসরায়েলের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই সতর্কবার্তার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধস এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে এই ঘটনা বিশ্ববাসীকে নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি ইরানের ‘হিটলিস্ট’ বা হত্যার তালিকায় রয়েছেন এবং যেকোনো সময় তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে, যখন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রাম্পের জীবননাশের সুনির্দিষ্ট হুমকির বিষয়টি উপস্থাপন করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল থেকে পাওয়া এই তথ্যটি অন্য সব সতর্কবার্তা থেকে আলাদা, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে। দীর্ঘ সময় ধরেই মার্কিন সরকার সতর্ক করে আসছে যে, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে তেহরান মরিয়া। সেই হত্যাকাণ্ডের দায় সরাসরি ট্রাম্পের ওপর চাপিয়ে ইরান বিভিন্ন সময় প্রতিশোধের হুঙ্কার দিয়েছে। এখন সেই হুঙ্কার কি বাস্তবায়নের পথে? এই প্রশ্নই এখন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষমহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একজন উর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের দেওয়া এই তথ্যকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ কম। অনেকের মতে, ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছেন, তখন তাঁকে প্রভাবিত করতেই হয়তো ইসরায়েল এমন একটি সংবেদনশীল তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতার ঘোরবিরোধী। তাই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই তথ্য ছড়ানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও গোয়েন্দা মহলে সন্দেহ রয়েছে।

নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্প বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে, অর্থাৎ আমাকে সরিয়ে দিতে চায়। আমি যেকোনো তালিকায় রয়েছি। আজ সকালেই আমি দেখলাম, তাদের প্রতিটি তালিকায় আমার নাম রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমি কিছুটা ভাগ্যবান, তবে ভাগ্য হয়তো সব সময় সহায় না-ও থাকতে পারে। নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে থাকলেও তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি ইরানকে ‘অত্যন্ত দুষ্ট ও মানসিকভাবে অসুস্থ’ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এই ক্যানসারকে উপড়ে ফেলতেই হবে। ক্যানসার যেমন শরীরের গভীরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই কেটে ফেলতে হয়, ঠিক একইভাবে এই হুমকিসমূহকেও শুরুতেই নির্মূল করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। গত কিছুদিন আগে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক বাতিল করার ঘোষণা দেন। এতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা নতুন করে তৈরি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে তেহরানের জনমনে যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তাতে ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছে এবং হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান দীর্ঘ সময় ধরে এমন কিছু পক্ষের ওপর ছায়া যুদ্ধের পরিকল্পনা করে আসছে, যারা মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের কোনো জোরালো প্রমাণ পায়নি, তবুও তারা কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই হত্যার ষড়যন্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গম্ভীর করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরকে সামনে রেখে এই উত্তেজনার পারদ আরও চড়তে পারে। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে লেবাননের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, ইরানের ইস্যুতে তারা একই বিন্দুতে মিলিত হতে চান। অন্যদিকে পর্দার আড়ালে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো চলছে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান—অর্থাৎ একদিকে সংঘাতের হুমকি আর অন্যদিকে পর্দার আড়ালে আলোচনার চেষ্টা—বর্তমান পরিস্থিতিকে এক জটিল সমীকরণে পরিণত করেছে।

ট্রাম্পের এই আত্মঘাতী পরিস্থিতির স্বীকারোক্তি এবং ইরানের হুমকির বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্যকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মেঘাচ্ছন্ন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা এখন কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়, এটি বিশ্বশান্তির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসী এখন দেখছে, কূটনীতি জয়ী হয় নাকি প্রতিশোধের আগুন সব কিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত