বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে স্পেনের মুখোমুখি বেলজিয়াম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার
বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে স্পেনের মুখোমুখি বেলজিয়াম

প্রকাশ:  ১০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এখন উত্তাপের শেষ নেই। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের দ্বৈরথ শুরু হয়েছে, যেখানে লস অ্যাঞ্জেলেসের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে আজ রাতে সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন এবং বেলজিয়াম। একদিকে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন ‘লা রোজা’দের অদম্য আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে ‘সোনালি প্রজন্ম’র দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ট্রফি জয়ের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি ফুটবল প্রেমীদের জন্য এক বিশাল উৎসবের উপলক্ষ। স্পেনের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ এবং বেলজিয়ামের আক্রমণাত্মক ফুটবলের এই ধ্রুপদী লড়াই দেখার জন্য তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। যে দল জিতবে, তারা সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে ফ্রান্স অথবা মরক্কোর মধ্যকার জয়ী দলকে।

স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা বিশ্ব ফুটবলে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান দখল করে নকআউট পর্বে আসা স্প্যানিশদের পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ছিল ঈর্ষণীয়। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের সেই নাটকীয় গোলটি স্পেনকে কেবল জয়ই এনে দেয়নি, বরং তাদের শিরোপা জয়ের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। স্পেনের এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো তাদের অবিশ্বাস্য রক্ষণভাগ। এই বিশ্বকাপে তারা এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি। টানা ছয়টি ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার অনন্য রেকর্ড গড়া এই দলটি গত দশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রতিপক্ষকে কোনো গোল করতে দেয়নি। রক্ষণভাগের এই জমাট দেয়ালই বেলজিয়ামের শক্তিশালী আক্রমণভাগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, বেলজিয়ামের পুনরুত্থানের গল্পটি অনুপ্রেরণার এক দারুণ উদাহরণ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর অনেকেই বেলজিয়ামের স্বর্ণযুগের সমাপ্তি দেখেছিলেন। কিন্তু ফরাসি কোচ রুডি গার্সিয়ার জাদুকরী স্পর্শে দলটির খোলনলচে বদলে গেছে। বর্তমানে টানা আঠারো ম্যাচে অপরাজিত থেকে তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর দল হয়ে উঠেছে। নকআউট পর্বে সেনেগালের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চার-এক গোলের বিশাল জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আকাশচুম্বী করেছে। প্রতি ম্যাচে আড়াইয়ের বেশি গোল গড়ের এই আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম। বেলজিয়ামের খেলার ধরণ হলো দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাক, যা স্পেনের ধীরগতির পজেশন ফুটবলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলবে।

দলীয় ভারসাম্যের দিকে তাকালে স্পেন তাদের পরিচিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল ডান প্রান্তে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার ড্রিবলিং দক্ষতা ও গতির সাথে পাল্লা দিয়ে মাঠ কাঁপাবেন স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল, যিনি শেষ সতেরো ম্যাচে তেইশটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। মাঝমাঠে ফ্যাবিয়ান রুইজ বা মিকেল মেরিনোর মধ্যে লড়াইটি হবে বেলজিয়ামের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি। যদিও নিকো উইলিয়ামসের ছোটখাটো চোটের কারণে তাকে শুরুর একাদশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে বেঞ্চ থেকে তার আগমন যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বেলজিয়াম শিবিরে অবশ্য কিছুটা দুঃসংবাদ রয়েছে। ইনজুরির কারণে মাঝমাঠের প্রাণভোমরা আমাদু ওনানা এই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। তবে কেভিন ডি ব্রুইনার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের শুরুর একাদশে ফেরাটা দলের জন্য দারুণ স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বেঞ্চে রেখে পরীক্ষা করার পর কোচ গার্সিয়া ডি ব্রুইনাকে মূল একাদশে ফেরাতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া চার্লস ডি কেটেলিয়ার ‘ফলস নাইন’ হিসেবে তার ফর্ম প্রমাণ করেছেন, যার পেছনে রোমেলু লুকাকুর মতো একজন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারকে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে কোচ গার্সিয়ার হাতে। বেলজিয়ামের এই আক্রমণাত্মক বৈচিত্র্য স্পেনের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট। আশির দশকের পর থেকে মুখোমুখি লড়াইয়ের অধিকাংশ ম্যাচেই জয় পেয়েছে লা রোজারা। তবে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে যখন দুই দল মুখোমুখি হয়, তখন পরিসংখ্যান প্রায় সমান সমান। ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের কথা আজও বেলজিয়াম সমর্থকদের মনে পড়ে, যেখানে তারা পেনাল্টি শুটআউটে স্পেনকে বিদায় করে দিয়েছিলো। সেই স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বেলজিয়াম চাইছে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করতে। অন্যদিকে স্পেন চাচ্ছে তাদের দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেতে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠ আজকের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে কতটা উত্তাল হবে, তা অনুমেয়। ফুটবলের পজেশন বনাম গতির যে চিরন্তন লড়াই, তার চূড়ান্ত রূপ দেখা যাবে এই ম্যাচে। স্পেনের রক্ষণভাগ কি বেলজিয়ামের ঝোড়ো আক্রমণ ঠেকাতে পারবে? নাকি বেলজিয়াম তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে স্পেনের রক্ষণভাগকে প্রথমবার পরাস্ত করবে? ফুটবল প্রেমীদের জন্য এর চেয়ে উত্তেজনাকর দৃশ্য আর কিছু হতে পারে না। বিশ্ব ফুটবলের দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির এই মহাদ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কার হাতে সেমিফাইনালের টিকিট তুলে দেয়, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে গভীর রাত পর্যন্ত। সবশেষে বলা যায়, ফুটবল মাঠের এই ধ্রুপদী লড়াই কেবল একটি ম্যাচ নয়, এটি ফুটবল কৌশলের এক নিখুঁত পরীক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত