নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর সরকার: এমপি দীপেন দেওয়ান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর সরকার: এমপি দীপেন দেওয়ান

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। অবিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে যখন কাপ্তাইয়ের সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে তাদের সাহস জোগাতে এবং ত্রাণ সহায়তা নিয়ে ছুটে এসেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সংসদ সদস্যের এই উপস্থিতি দুর্গত মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার করেছে।

ত্রাণ বিতরণকালে এমপি দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাহাড়ের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে যে প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে টিকে আছে, তা নিরসনে সরকার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আন্তরিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে পাহাড়ি জনপদের উন্নয়নে যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের এই মহাসড়কে কাউকে পিছিয়ে থাকতে দেওয়া হবে না, বরং সমতলের সাথে পাহাড়ের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করা হবে।

দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সরকার যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নীতিতে বিশ্বাসী। পাহাড়ধস কিংবা বন্যা—যেকোনো বিপর্যয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য, পানীয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে কোনো মানুষের যেন অভাব বা অবহেলায় দিন কাটাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

কাপ্তাই উপজেলা আশ্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত দুর্যোগপীড়িত মানুষের সাথে কথা বলার সময় এমপি দীপেন দেওয়ান তাদের সবজি বাগান, ঘরবাড়ি ও জীবিকার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ শোনেন। পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা ও সংগ্রাম সম্পর্কে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনুধাবন করেন যে, কেবল ত্রাণ দিয়েই পাহাড়ের মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়। প্রয়োজন টেকসই অবকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্প। তিনি আশ্বাস দেন যে, অদূর ভবিষ্যতে পাহাড়ের প্রতিটি জনপদে এমন স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হবে যা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও টিকে থাকবে।

সংসদ সদস্যের সাথে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এমন সমন্বিত উপস্থিতি দুর্গতদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, যুগ্ম সম্পাদক দিলদার হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক আবু এবং কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মামুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তাদের উপস্থিতিও ত্রাণ কার্যক্রমে গতি সঞ্চার করেছে।

রাজনৈতিক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে পাহাড়ের মানুষের সেবায় কাপ্তাই জামায়াতের আমির মুহাম্মদ হারুনুর রশীদের অংশগ্রহণও ছিল লক্ষ্যণীয়। দুর্যোগের মুহূর্তে যখন পুরো জনপদ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, তখন সব রাজনৈতিক দলের এমন ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস পাহাড়ের মানবিক সংকটে আশার আলো দেখাচ্ছে। ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক উথাই মং মারমাসহ তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি কর্মীর নিরলস পরিশ্রমে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। কাপ্তাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউসুফ ও সম্পাদক কামাল হাকিমের তদারকিতে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন পর্যাপ্ত সাহায্য পায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

পাহাড়ের এই জনপদে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন এবং বেকারত্ব নিরসনে সরকারের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এমপি বলেন, পাহাড়ের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা উন্নয়নে বিশ্বাসী। সরকার পাহাড়ে সংঘাত নয়, বরং সম্প্রীতি ও উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে চায়। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পথে বর্তমানে যে কিছুটা সময় লাগছে, তা মূলত প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, খুব শীঘ্রই রাঙামাটির প্রতিটি এলাকায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে এবং পাহাড় হবে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র।

আশ্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে এমপি দীপেন দেওয়ান বলেন, সরকার তোমাদের অভিভাবক হিসেবে সর্বদা সজাগ রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের হাতে না থাকলেও, দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়া এবং তোমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব। ধৈর্য ও সাহসের সাথে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্ধকার কাটবে এবং আবারও পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইবে। সরকারের উন্নয়ন যাত্রায় পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে।

রাঙামাটির এই দুর্গম এলাকায় সংসদ সদস্যের এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা পাহাড়ের মানুষের সাথে সরকারের এক ধরনের আত্মিক বন্ধন তৈরির প্রয়াস। দুর্যোগের এই দিনে যখন পুরো পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে, তখন পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মতো বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য এমন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জনগণের সাথে সম্পৃক্ততার কোনো বিকল্প নেই। দীপেন দেওয়ানের এই প্রতিশ্রুতি পাহাড়ি জনপদের মানুষের মনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভাব আর অভিযোগের জায়গায় কিছুটা হলেও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত