দুর্যোগ মোকাবিলায় বিরামহীন তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
দুর্যোগ মোকাবিলায় বিরামহীন তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রকৃতির রুদ্ররোষে বিপর্যস্ত দেশের বিস্তীর্ণ জনপদ। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, ভেসে যাচ্ছে মানুষের স্বপ্ন। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে দুর্গত মানুষের পাশে পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকার। এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন থেকে শুরু করে মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা সবাই এখন একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। পর্দার আড়ালে থেকে পুরো পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার নিরন্তর তদারকি আর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল ও কার্যকর হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের এক মুহূর্তের জন্যও বসে থাকার অবকাশ দিচ্ছেন না, বরং সবাইকে রেখেছেন সর্বোচ্চ তৎপরতায়, যাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলছেন ‘সবার দৌড়ের উপরে থাকা’।

শনিবার রাতে রাঙামাটির ভেদভেদীস্থ লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম সংলগ্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর ও মানবিক তদারকির কথা তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি ছোটখাটো ঘটনার আপডেট রাখছেন এবং কোথায় কী পদক্ষেপ নিলে দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে, সেই নির্দেশনাও তিনি নিজেই দিচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তারা যে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি ও তাৎক্ষণিক নির্দেশনা পাচ্ছেন, তা প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইনের কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই সংকটকালে প্রধানমন্ত্রীর এমন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেবল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনেও এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছে যে, তাদের বিপদে সরকার অভিভাবক হিসেবে পাশে আছে।

সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং বন্যা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য যদি তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগে, তবে সরকার তিন মাস পর্যন্তই তাদের পাশে থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তাদের পুনর্বাসনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো মানুষ যেন সরকারের সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি মানবিক দায়বদ্ধতা হিসেবেই দেখছে বর্তমান সরকার।

দুর্যোগের ব্যাপকতা সামাল দিতে সরকার অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় করার জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি আগামী এক সপ্তাহ ওই এলাকাতেই অবস্থান করে পরিস্থিতির প্রতিটি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং দ্রুত রিপোর্ট প্রদান করবেন। এছাড়া পার্বত্য তিন জেলাসহ মোট পাঁচটি জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং জরুরি প্রতিবেদন প্রদানের জন্য ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নিজেই ছুটে চলছেন এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। খাগড়াছড়ি পরিদর্শন শেষে গভীর রাতে রাঙামাটিতে পৌঁছানো প্রতিমন্ত্রীর এই সফর সূচি থেকেই বোঝা যায়, সরকারের নীতিনির্ধারকরা এখন মাঠ পর্যায়েই অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন।

তবে এই দুর্যোগ কেবল সাময়িক নয়, এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত অবক্ষয়ের একটি বড় চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বছরের পর বছর ধরে হ্রদের নাব্যতার দিকে নজর না দেওয়া এবং প্রকৃতির ওপর মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত হস্তক্ষেপ এই সংকটের অন্যতম কারণ। মানুষ প্রকৃতি ধ্বংস করেছে, আর এখন সেই প্রকৃতির প্রতিক্রিয়ার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এই সংকট মোকাবিলা করা সরকারের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ দিয়ে এই প্রকৃতির বিপর্যয়ের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, তাই ভবিষ্যতে পরিবেশ সুরক্ষায় আরও কঠোর ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলা এবং তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রীর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে গভীর সহমর্মিতা। তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে খাবার বিতরণ করেছেন এবং তাদের ভরসা দিয়েছেন যে, সরকার তাদের একা ফেলে যাবে না। রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং দলীয় নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমান সরকারের এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তৎপরতার এক অনন্য মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসে নেই, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের বিপদে তিনি অভিভাবক হিসেবে পাশে আছেন। তার এই নির্দেশনায় সারা দেশের প্রশাসনিক যন্ত্র এখন কর্মচঞ্চল। স্থানীয় প্রশাসন এখন অনেক বেশি দায়িত্বশীল এবং সাধারণ মানুষও বিপদের মুহূর্তে সরকারি সহায়তা পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল দুর্যোগ মোকাবিলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমানোর একটি মডেল হিসেবে গড়ে উঠছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই প্রতিকূল পরিবেশ আমাদের আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে, সচেতনতাই বাঁচার প্রধান উপায়। সরকারের পক্ষ থেকে কেবল সহায়তাই দেওয়া হচ্ছে না, বরং সবাইকে দুর্যোগের সময় সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসের মতো ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যে সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই অবিরাম দৌড় আর সঠিক দিকনির্দেশনা শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলবে, এটাই প্রত্যাশা সবার। সরকার জনগণের পাশে আছে এবং এই দুর্যোগ কাটিয়ে বাংলাদেশ আবারও তার উন্নয়নের পথে ফিরে আসবে—এই দৃঢ় বিশ্বাসই এখন স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত