বরিশালে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
বরিশালে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার অংশ হিসেবে বরিশাল সফর করেছেন। সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদীতে পৌঁছে তিনি বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচিসহ একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি বরিশাল বিভাগে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সফরটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যায়।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বরিশালের গৌরনদীতে পৌঁছায়। সেখানে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং জনপ্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গৌরনদীসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও সফর নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সকাল থেকেই বরিশালের বিভিন্ন সড়কে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সমর্থক বরিশালের প্রবেশপথ থেকে গৌরনদী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে করে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। সমর্থকদের করতালি ও শুভেচ্ছায় পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।

সফরের একটি ব্যতিক্রমী দিক ছিল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা। তাঁর ব্যক্তিগত নির্দেশে সফর উপলক্ষে কোথাও তাঁর ছবি সংবলিত স্বাগত তোরণ নির্মাণ করা হয়নি। একই সঙ্গে ছিল না প্রচলিত ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারি সফরে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার এবং সাদামাটা আয়োজন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বরিশাল সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা। তিনি জানান, দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে যাবেন।

সফরের শুরুতেই গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নতুন খনন করা সরিকল খালের পাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

বৃক্ষরোপণ শেষে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে সরকার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত সহায়তা পেলে তাদের পারিবারিক ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে।

দিনের দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল জেলা সদরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের পাড়ে আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি খালপাড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার মাধ্যমে মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নগর পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দলের সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। সেখানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এ সভায় উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী ও খাল পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকারের প্রতিফলন এই সফরে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, বরিশালের খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।

পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, বরং কার্বন শোষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বরিশাল সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আরও কার্যকর করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও তাঁর সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, বরিশাল সফরের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মসূচি আরও গতি পাবে এবং এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত