প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে নারীদের শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যে নির্বাচনী অঙ্গীকার করেছিল, সরকার গঠনের পর তা বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির প্রথম ধাপ হিসেবে চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি জানান, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় সুবিধাভোগী পরিবার নির্বাচন করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলার প্রায় সাত হাজার পরিবারের নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এতে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অসংখ্য পরিবার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন সুবিধা সহজে পাবে বলে সরকার আশা করছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, একটি পরিবারের নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং পরিবারকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষার একটি স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এবং পারিবারিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে চার কোটি পরিবারের নারী সদস্যকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, এটি সরকারের অন্যতম বড় সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, যা দেশের দরিদ্র, নিম্ন আয়ের এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন থাকলে বিএনপি দেশের স্বার্থে কাজ করতে কোনো বাধাকে ভয় পাবে না। তাঁর ভাষায়, জনগণই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং জনগণের আস্থা নিয়েই সরকার উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাবে।
শিক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করে বর্তমান সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষার প্রসার দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। শিক্ষিত নারী একটি পরিবারকে যেমন এগিয়ে নিতে পারেন, তেমনি একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ কারণে সরকার নারী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগও সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার বৃত্তি কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই দুই খাতের সমন্বিত উদ্যোগ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বরিশালের গৌরনদীতে পৌঁছায়। সেখানে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বাটাজোর ইউনিয়নের নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দেশজুড়ে সবুজায়ন কার্যক্রম আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
গৌরনদীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সম্ভাব্য উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত শোনেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য খাদ্য, ভর্তুকি এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এর সুফল নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী চার কোটি পরিবারের নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।